সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: গত রবিবার থেকেই ভারতীয়দের কাছে জমজমাট হয়ে উঠেছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup)। যেখানে মরোক্কোর কাছে আটকে গিয়েছিল ব্রাজিল। যদিও তারপর অন্যান্য দল অর্থাৎ জার্মানি ও জাপানের মতো দেশ গুলির আশানুরূপ পারফরম্যান্স থাকলেও এবার এই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ঘটে গেল প্রথম অঘটন। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতীয় সময় রাত ১০টা বেজে ৩০ মিনিট নাগাদ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেমেছিল ইসাবেলার স্পেন। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের প্রায় তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। খাতায় কলমে তাঁদের থেকে অনেক অনেক অংশেই এগিয়ে ছিল একবারের বিশ্বজয়ীরা।
কাজেই এদিন জয় নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন স্পেনের সমর্থকরা। কিন্তু সেটা আর হলো কোথায়? সম্পূর্ণ সময়ের শেষে গোলশূন্য ফলাফলে শেষ হল এই ম্যাচ। হ্যাঁ মানতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ম্যাচের প্রথম থেকেই বলের দখল ছিল স্পেনের। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঝমাঠে যথেষ্ট সাবলীল ফুটবল খেলতে দেখা গিয়েছিল পেদ্রীদের। কিন্তু আক্রমণভাগে যেন বারংবার ধাক্কা খাচ্ছিল স্প্যানিশ আর্মাডা। বলাবাহুল্য, এদিন লামিনে ইয়ামালকে শুরু করার বদলে টোরেসের উপরেই অধিক ভরসা রেখেছিলেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক হতে শুরু করলেও সকলেই আটকে যাচ্ছিলেন কেপ ভার্দের বছর চল্লিশের গোলরক্ষক ভোজিনহার কাছে।
বলাবাহুল্য, এদিন যেন কেপ ভার্দের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন এই ফুটবলার। মাঝে অর্থাৎ প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে এসে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন টোরেস। কিন্তু সেই বল গোলে রাখা সম্ভব হয়নি। বারে লেগে ফিরে আসে ফুটবল। যা নিঃসন্দেহে হতাশ করেছিল সকলকে। এছাড়াও প্রতিপক্ষ স্পেনের একের পর এক বিষ হেড অতি সহজেই আটকে দিতে দেখা যায় এই গোলরক্ষককে। যেটা অতি সহজেই চমকে দিয়েছে সকলকে। আক্রমণে কেপ ভার্দে খুব একটা সুযোগ করে নিতে না পারলেও দূর্ভেদ্য রক্ষণভাগের পাশাপাশি তিন কাঠিতেই বাজিমাত করে গেল এই ফুটবল দল। তবে হিসাব অনুযায়ী দেখলে এবারের এই ত্রিদেশীয় ফুটবল বিশ্বকাপে এটাই যেন প্রথম অঘটন। পূর্বে ও এমন পরিস্থিতি সামলে সাফল্য পাওয়ার রেকর্ড থেকেছে স্পেনের। তবে এবার ও কি সেই একই ছবির সাক্ষী থাকবে সকলে? সেটাই দেখার বিষয়।


