PA-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, অভিষেককে ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নের পাহাড়

প্রতারণা ও জমি দুর্নীতি মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) (Sumit Roy) তথা…

Abhishek Banerjee Under Scrutiny After Warrant Issued Against Personal Assistant

প্রতারণা ও জমি দুর্নীতি মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) (Sumit Roy) তথা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। অভিযোগ, আর্থিক প্রতারণা ও জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তদন্তে সহযোগিতা না করায় তাঁর বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও এখনও অধরা রয়েছেন সুমিত রায়।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি এবং জমি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে একাধিকবার তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। এরপর আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

   

সুমিত রায়ের নাম এর আগেও একাধিক বিতর্কিত মামলায় উঠে এসেছে। ২০২২ সালে বহুচর্চিত কয়লা পাচার মামলার তদন্তে তাঁর নাম সামনে আসে। ওই মামলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন বলে জানা যায়। সেই সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল। যদিও সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি, তবুও তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন তিনি।

দলীয় এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে সামলাতেন সুমিত রায়। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, অভিষেকের সময়সূচি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দেখভাল করতেন তিনি। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও অভিষেককে ‘স্যর’ বলেই সম্বোধন করতেন সুমিত।

এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গত শনিবার সুমিত রায়ের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র ধরে তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান খুঁজতে শুরু করেন। তদন্তের সময় মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, সুমিতের ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ছিল কলকাতার কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির আশপাশে।