অমরনাথ যাত্রার প্রাক্কালে জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে চলছে নিরাপত্তা রক্ষীদের চিরুনি তল্লাশি

শ্রীনগর: পবিত্র অমরনাথ যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। (Amarnath Yatra)এই উপলক্ষে কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শ্রীনগরের ব্যস্ত লাল চৌক এলাকায়…

amarnath-yatra-security-checks-srinagar

শ্রীনগর: পবিত্র অমরনাথ যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। (Amarnath Yatra)এই উপলক্ষে কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শ্রীনগরের ব্যস্ত লাল চৌক এলাকায় শনিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে চমকানি তল্লাশি অভিযান। নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা হোটেল, গেস্ট হাউস, বাণিজ্যিক ভবন ও আবাসিক এলাকায় হঠাৎ হানা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

   

প্রতিটি অতিথি, কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শরীর তল্লাশি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম লাল চৌকের প্রধান সড়কগুলোতে চেকপয়েন্ট বসিয়েছে। হোটেল মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি অতিথির বিস্তারিত তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখতে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তি এলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/bangladesh/bangladesh-hindu-students-ram-statue-protest/

নিরাপত্তা বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “যাত্রার সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্যই এই আগাম তল্লাশি। আমরা সব ধরনের সম্ভাব্য হুমকি মাথায় রেখে কাজ করছি।”অমরনাথ যাত্রা এবারও লাখো ভক্তের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি বছরই এই যাত্রা চলাকালীন কাশ্মীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিন স্তরে করা হয়। তবে এবার আগে থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে।

লাল চৌক শ্রীনগরের হৃদয়স্থল। এখানে প্রচুর হোটেল, দোকানপাট ও পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তাই এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জওয়ানরা রাতের অন্ধকারেও ফ্ল্যাশলাইট নিয়ে ভবনের প্রতিটি কোণ তল্লাশি করছেন। অনেক হোটেল মালিক এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ব্যবসাও ভালো চলবে।”স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন, এই তল্লাশি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা অসুবিধা তৈরি করলেও নিরাপত্তার জন্য এটা প্রয়োজন। একজন দোকানদার বলেন, “যাত্রার সময় কোনো ঘটনা ঘটলে পুরো উপত্যকার সুনাম নষ্ট হয়। তাই সেনাবাহিনী যা করছে, ঠিকই করছে।” অন্যদিকে কয়েকজন যুবক অভিযোগ করেছেন, বারবার তল্লাশির কারণে তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসন অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না।

এদিকে অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় মোট ৪৫ হাজারের বেশি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সিআরপিএফ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট একসঙ্গে কাজ করছে। হেলিকপ্টারে করে এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রাপথে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রার আগে ও চলাকালীন কোনো সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা রুখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শ্রীনগরের লাল চৌক ছাড়াও পহেলগাঁও, সোনমার্গসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও একই রকম অভিযান চলছে। পর্যটকদেরও সতর্ক করা হয়েছে, অপরিচিত কারও সঙ্গে বেশি মেলামেশা না করতে। হোটেলগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। যাত্রার সময় যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেজন্য প্রশাসন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সমন্বয় করছে।