‘সই থাকলে কাগজ দেখান’ কাকলিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ প্রতিমার

Pratima Mondal Distances Herself from Rebel MPs Within TMC
Pratima Mondal Distances Herself from Rebel MPs Within TMC

দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে “গোপন বৈঠক” ঘিরে জল্পনা, অন্যদিকে সাংসদদের অবস্থান নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সব মিলিয়ে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং প্রতিমা মণ্ডল।(Pratima Mondal)

সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিল্লিতে দলের কিছু সাংসদের একটি বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একাধিক সাংসদকে দেখা গিয়েছিল। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নতুন করে আলোচনা। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, মোট ২০ জন সাংসদ একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে সই করেছেন বা একমত হয়েছেন। তবে সেই তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।(Pratima Mondal) এই বিতর্কের মধ্যেই উঠে আসে প্রতিমা মণ্ডলের নাম। কিন্তু প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে দেখা না যাওয়ায় প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়তিনি কি আদৌ সেই বৈঠকে ছিলেন? নাকি তাঁর নাম অযথা টেনে আনা হচ্ছে? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমা মণ্ডল স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি জানান, তিনি কোনও “গোপন বৈঠক”-এ অংশ নেননি এবং কাউকে কোনো কাগজে সইও করেননি। প্রতিমার বক্তব্য, “আমি কোনও বৈঠকে যাইনি। শতাব্দী রায় বা অন্য কেউ যেখানেই থাকুক, আমি কারও বাড়িতে যাইনি। ৪ তারিখে এস্টিমেট কমিটির বৈঠক ছিল, ৩ তারিখ রাতে দিল্লিতে পৌঁছেছিলাম, আর ৪ তারিখ বিকেল ৪টা ১০-এর বিমানে কলকাতায় ফিরে আসি।”

   

তাঁর(Pratima Mondal) এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, দিল্লির কথিত বৈঠকের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর নাম তালিকায় থাকলেও তিনি কোনও সিদ্ধান্তে অংশ নেননি এবং কোনও দলিল বা কাগজে স্বাক্ষর করেননি। এই প্রসঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন প্রতিমা মণ্ডল। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই ১৯ বা ২০ জন সাংসদের সই থেকে থাকে, তাহলে সেই কাগজ সামনে আনা হোক। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ সিদ্ধান্ত নিলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিজেই নেব।”

এদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তাঁর দাবি করা “২০ জন সাংসদের সই” বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি ঘিরে জল্পনা ও পাল্টা জবাবের রাজনীতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, প্রতিমা মণ্ডলের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট তিনি নিজেকে এই বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে চাইছেন এবং নিজের অবস্থানকে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দলীয় শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল, তবে ব্যক্তিগতভাবে ভুল তথ্য বা নাম জড়িয়ে দেওয়াকে তিনি মানতে রাজি নন।