জুরিখে বসেও মন পড়ে কলকাতায়, রবিকথায় ভরল প্রবাসী রবিবার

probashi-bengali-rabikatha-zurich-kolkata-culture

রবিবার (Rabi katha) মানেই যেন বাঙালির কাছে এক অন্য অনুভূতি। সকালবেলার নরম রোদ, চায়ের কাপে ধোঁয়া, গানের সুর, বইয়ের পাতা আর মন ভরানো আড্ডা—সব মিলিয়ে এক টুকরো আপন পৃথিবী। আর সেই পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে কোথাও না কোথাও জড়িয়ে থাকেন রবীন্দ্রনাথ। তাই মন যখন রবিকথায় ভরে ওঠে, তখন রবিবারটাও যেন একটু বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে।

ছোটবেলা থেকে দেখে আসা সেই চিরচেনা রবিবারের ছবি আজও মন থেকে মুছে যায়নি। জলখাবারের পর গানের রেওয়াজ, দুপুরের রকমারি রান্না, বিকেলের সাহিত্য আড্ডা কিংবা গল্পের ফাঁকে রবীন্দ্রসঙ্গীত—এসবই তো বাঙালিয়ানার অমূল্য সম্পদ। সময় বদলেছে, ঠিকানা বদলেছে, কিন্তু সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা বদলায়নি।

   

সুইজারল্যান্ডের Zurich শহরে বসবাস করলেও, অনেক সময় এখানকার Bellevue কিংবা Lake Zürich-এর ধারে হাঁটতে হাঁটতে মনে পড়ে যায় কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর কিংবা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আশপাশের সেই চেনা আবহ। Zürich Opera House-এর সামনে দাঁড়িয়ে কখনও মনে হয়, শিল্প-সংস্কৃতির ভাষা সত্যিই সার্বজনীন। দেশ বদলালেও অনুভূতির রং বদলায় না।

ইউরোপের শিল্পচেতনা, সংগীত, চলচ্চিত্র, সাহিত্য এবং নন্দনবোধের সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মার এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। সুইস শৃঙ্খলা, জার্মানির শিল্পভাবনা, ফ্রান্সের নান্দনিকতা কিংবা ইতালির সুরেলা জীবনদর্শনের মধ্যেও কোথাও যেন খুঁজে পাই নিজের শহর কলকাতাকে।

শ্রুতি ব্যানার্জি
বাংলা সাংস্কৃতিক দূত (Switzerland) ও Freelance Reporter, Zurich

একজন Freelance Reporter হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র উৎসব, সঙ্গীত সন্ধ্যা, শিল্প প্রদর্শনী এবং আন্তর্জাতিক মিলনমেলা থেকে নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করি আপনাদের কাছে। কারণ সংস্কৃতি শুধু বিনোদন নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক যোগসূত্রও তৈরি করে।

স্বপ্নকে ভালোবেসে এগিয়ে চললে একদিন না একদিন তা পূরণ হয়ই। বড়দের আশীর্বাদ, ঈশ্বরের কৃপা এবং ভালো মানুষের ভালোবাসাই সেই পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।