
স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: আইপিএল শেষ হয়েছে প্রায় দশ দিন আগে। এদিকে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুরও আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। কিন্তু এত সময় পেরিয়ে গেলেও আইপিএল থেকে প্রাপ্য অর্থ এখনও হাতে না পাওয়ায় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে টালিগঞ্জ অগ্রগামী (Tollygunge Agragami)। ক্লাবের দাবি, প্রতি বছর যে বিশেষ অনুদান বা সাবসিডি ফান্ড সদস্য ক্লাবগুলিকে দেওয়া হয়, সেই অর্থ এখনও তাদের কাছে পৌঁছয়নি। ফলে নানা আর্থিক দায় মেটাতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সিএবির নিয়ম অনুযায়ী, আইপিএল আয়োজনের সুবাদে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) থেকে যে অর্থ সংস্থার কাছে আসে, তার একটি অংশ অনুমোদিত সদস্য ক্লাব ও সংস্থাগুলির মধ্যে বণ্টন করা হয়। এই অনুদানের পরিমাণ সাধারণত তিন লক্ষ টাকা। কলকাতার বড় ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ক্লাবগুলির ক্ষেত্রে এই অর্থের উপর নির্ভরতা তুলনামূলক কম হলেও অনেক ছোট ও মাঝারি ক্লাবের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বার্ষিক খরচের একটি বড় অংশ এই অনুদানের উপর নির্ভর করে।
প্রথা অনুযায়ী, আইপিএল চলাকালীন সময়েই সদস্য সংস্থাগুলিকে মোট অনুদানের অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর বাকি অর্থও পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। টালিগঞ্জ অগ্রগামীর দাবি, এখনও পর্যন্ত তারা কোনও অর্থই পায়নি। সেই কারণেই ক্লাবের পক্ষ থেকে সিএবি সচিব বাবলু কোলে-র উদ্দেশে একটি ই-মেল পাঠানো হয়েছে।
ই-মেলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম ডিভিশন ক্রিকেট-সহ স্থানীয় মরশুমের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ফলে এখন খেলোয়াড়, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের পারিশ্রমিক মেটানোর সময়। পাশাপাশি ক্যান্টিন পরিচালনা, জার্সি ও সরঞ্জাম কেনা-সহ একাধিক প্রশাসনিক খরচও রয়েছে। এর সঙ্গে আগামী মরশুমের প্রস্তুতির কাজও শুরু করতে হবে। সব মিলিয়ে যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন রয়েছে ক্লাবের। তাই তারা দ্রুত প্রাপ্য অনুদান মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সিএবির কাছে আবেদন জানিয়েছে।
টালিগঞ্জ অগ্রগামী তাদের চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, অতীতে প্রতি বছরই আইপিএল-পরবর্তী সময়ে সদস্য ক্লাবগুলি তিন লক্ষ টাকার এই অনুদান পেয়ে এসেছে। কিন্তু এবার সেই অর্থ না পাওয়ায় বিভিন্ন আর্থিক পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বকেয়া পরিশোধ এবং নতুন মরশুমের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে সিএবি সচিব বাবলু কোলে জানিয়েছেন, সাধারণত সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার আগে বা পরে এই সাবসিডি ফান্ড বিতরণ করা হয়। তাঁর কথায়, কিছু ক্ষেত্রে অর্থ প্রদান শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও তিনি জানেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনও সদস্য সংস্থাই তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হবে না।
বাবলু কোলে বলেন, চলতি বছরে সিএবিকে অত্যন্ত ব্যস্ত সূচির মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। প্রথমে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচ, তারপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং তার পরপরই আইপিএলের মতো বড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব ছিল। সেই কারণেই কিছু প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সমস্ত অনুমোদিত সদস্য সংস্থাই তাদের প্রাপ্য অর্থ যথাসময়ে পেয়ে যাবে। ফলে টালিগঞ্জ অগ্রগামীর মতো ক্লাবগুলিও আশা করছে, খুব শীঘ্রই তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হবে।

