ফলতা (Falta duplicate voter list controversy) বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী জাহাঙ্গির খান এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে SIR প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, সেই প্রক্রিয়াকেই কার্যত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, (Falta duplicate voter list controversy) কোনো ভোটারের নাম যাতে একাধিক স্থানে তালিকাভুক্ত না থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য SIR প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরনো ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করে নতুন, ত্রুটিমুক্ত এবং স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ফলতায় এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু নির্দিষ্ট ভোটারের নাম একাধিক স্থানে রেখে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জাহাঙ্গির (Falta duplicate voter list controversy) খানের প্রভাবের কারণে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার ফলে একই ভোটারের নাম দুই জায়গায় থেকে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী পক্ষ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছে এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই সামনে এসেছে এক ভোটারের অভিজ্ঞতা, যা গোটা ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ফলতা বিধানসভা এলাকায় ভোট দিতে এসে চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন জয় সাহা নামের এক ভোটার। তিনি দাবি করেন, আজ নিয়ে তিনি তিনবার ভোট দিয়েছেন, যা স্বাভাবিক নির্বাচনী ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।
জয় সাহার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি পূর্বে ডায়মন্ড হারবার এলাকা থেকে SIR ফর্ম পূরণ করে জমা করেছিলেন। পরে ফলতায় তাঁর নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও, তিনি সেখানে আলাদাভাবে আবার SIR ফর্ম জমা করেননি, কারণ তাঁর দাবি ছিল, তাঁর নাম এক জায়গাতেই থাকা উচিত। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তা সত্ত্বেও তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, বারবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গির খানের প্রভাবের কারণে তাঁর নাম দুই স্থানে থেকেই যায় এবং সেটি সংশোধন করা হয়নি। এর ফলেই তিনি ভোটগ্রহণের দিনে একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পান বলে দাবি করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির একটি বড় উদাহরণ। অন্যদিকে, শাসক শিবির এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি।



















