ঢাকা: বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন চত্বরে এক ভারতীয় (Indian Official)কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত কর্মকর্তার নাম নরেন ধর (৩৮)। তিনি ভারতের চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চট্টগ্রামের খুলশি থানা এলাকার জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনের ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ওল্ড ভিসা সেন্টারের ডাটা এন্ট্রি রুম সংলগ্ন বাথরুমের দরজার সামনে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। সকালে অফিসের অন্যান্য কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে।
আরও দেখুনঃ ভারতে বিগ ব্যাশ আয়োজনের ভাবনা, চেপক ঘিরে জোরাল আলোচনা
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (CMP)-এর প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ এখনও কোনও নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তেমন কোনও অস্বাভাবিক চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও মৃত্যুর ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা থাকায় তদন্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
মৃতদেহটি উদ্ধার করার পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (CMC) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
নরেন ধরের সহকর্মীদের মধ্যে এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভারতীয় মিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ না করা হলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কূটনৈতিক নিয়ম মেনেই পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দফতরের। বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা, প্রটোকল এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিষেবার কাজে এই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই ধরনের একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে দুই দেশের প্রশাসনিক মহলের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মরত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং মানসিক চাপও অনেক সময় স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে এমন কোনও কারণ যুক্ত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দফতরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।




















