চট্টগ্রাম: পার্বত্য চট্টগ্রামে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মৌলবাদী অত্যাচার। (Chattogram)মাটিরাঙ্গা উপজেলার যুদ্ধ কুমার পাড়ায় ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির ও সংলগ্ন হিন্দু শ্মশানভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় আদিবাসী ত্রিপুরী হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, ‘জমির জিহাদি’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এই পবিত্র জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির ও পাশেই অবস্থিত শ্মশানভূমি এখন অবৈধভাবে অন্য এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ফলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিশেষ করে শবদাহের সময় বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা।দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাসকারী আদিবাসী ত্রিপুরি সম্প্রদায় মনে করছে, তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার ক্রমশ খর্ব করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ মোদী রাজ্যে গোয়েন্দাদের জালে ইসরায়েল-আমেরিকার নিষিদ্ধ করা জঙ্গি সংস্থার নেটওয়ার্ক
স্থানীয় সূত্র অনুসারে, ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরটি এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। এর পাশেই শ্মশানভূমি রয়েছে, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ত্রিপুরী হিন্দুরা শবদাহ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এই জমি অবৈধভাবে দখল করে নিজেদের নামে রেকর্ড করে ফেলেছে। ফলে শবদাহ করতে গেলে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কখনো কখনো শারীরিকভাবে আটকানো হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।আদিবাসী ত্রিপুরী নেতৃত্বের দাবি, এটি শুধু জমির দখল নয়, বরং তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অস্তিত্বের উপর আঘাত। পার্বত্য চট্টগ্রামে হিন্দু ও বৌদ্ধ আদিবাসীদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি দখল, হুমকি ও সাম্প্রদায়িক চাপের অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু যুদ্ধ কুমার পাড়ার এই ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মন্দিরের জমি ও শ্মশানভূমি অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।এই ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, এমন ঘটনা বারবার ঘটলে ভবিষ্যতে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনই কঠিন হয়ে উঠবে।
স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, জমির অবৈধ রেজিস্ট্রি বাতিল করে মূল মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং মন্দির ও শ্মশানভূমির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।পার্বত্য চট্টগ্রামের এই স্পর্শকাতর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধ কুমার পাড়ার ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে।



















