মোদী রাজ্যে গোয়েন্দাদের জালে ইসরায়েল-আমেরিকার নিষিদ্ধ করা জঙ্গি সংস্থার নেটওয়ার্ক

গুজরাটের গান্ধীনগরে সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও অন্যান্য তদন্ত সংস্থার যৌথ অভিযানে একটি অত্যন্ত সংগঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক (Crypto Terror)মাদক ও জঙ্গি অর্থায়ন নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে গুজরাটের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
gujarat-crypto-terror-funding-network-busted

গুজরাটের গান্ধীনগরে সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও অন্যান্য তদন্ত সংস্থার যৌথ অভিযানে একটি অত্যন্ত সংগঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক (Crypto Terror)মাদক ও জঙ্গি অর্থায়ন নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে গুজরাটের বিভিন্ন ওয়ালেট জড়িত বলে জানা গিয়েছে, যা অবৈধ মাদক বাণিজ্যের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারীরা মনেরো এবং ইউএসডিটির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করেছেন।

এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইসরায়েলের ন্যাশনাল ব্যুরো ফর কাউন্টার টেরর ফাইন্যান্সিং (NBCTF)-এর ফ্রোজেন ওয়ালেট এবং আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাধীন সংস্থাগুলোর যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নেটওয়ার্কটি টেলিগ্রাম, হাওলা চ্যানেল এবং দুবাইভিত্তিক হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, যুক্তরাজ্যের একটি জেলখানা থেকেও এই অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

   

আরও দেখুনঃ আসানসোল উত্তরে দুষ্কৃতীদের কাছ থেকেই থানা ভাঙার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা পুলিশের

গুজরাট সিআইডি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর যৌথ টিম এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছে।এই নেটওয়ার্কের মূল কৌশল ছিল মাদক বিক্রির অর্থকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সাদা করে জঙ্গি সংগঠনগুলোতে পাঠানো। মনেরোর মতো প্রাইভেসি-ফোকাসড ক্রিপ্টো ব্যবহার করে তারা লেনদেনের ট্রেস লুকিয়ে রাখত। পরে সেই অর্থ ইউএসডিটিতে রূপান্তরিত করে দুবাইয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গুজরাটের কয়েকটি ওয়ালেট থেকে এই ধরনের লেনদেন হয়েছে, যা ইসরায়েলের কাউন্টার টেরর ফাইন্যান্সিং ব্যুরোর ফ্রোজেন লিস্টে থাকা ওয়ালেটের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। আমেরিকার স্যাংশনড এনটিটিগুলোর সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে।এই ঘটনা শুধু গুজরাট নয়, গোটা দেশের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন ও মাদক চক্র কীভাবে একসঙ্গে কাজ করছে, তার স্পষ্ট ছবি ফুটে উঠেছে এই তদন্তে।

টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোকে ব্যবহার করে তারা নেটওয়ার্ক বিস্তার করত এবং হাওলা ব্যবস্থার সঙ্গে ক্রিপ্টোকে মিলিয়ে অর্থ স্থানান্তর করত। দুবাইয়ের হ্যান্ডলাররা মূলত এই অর্থকে আরও ছড়িয়ে দিত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যের জেল থেকে অপারেশন চালানোর অভিযোগ। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে এই চক্রগুলো কতটা সংগঠিত এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অবৈধ ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসের সঙ্গেও এই নেটওয়ার্কের যোগ ছিল।

এই অভিযানের পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ, ইডি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও এই মামলায় যুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির অজানা দুনিয়ায় সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন বাড়ছে। মনেরোর মতো কয়েন যেহেতু ট্র্যাক করা কঠিন, তাই এর অপব্যবহার বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google