
কলকাতা: নির্বাচনী আবহে ফের সামনে এল সরকারি কর্মীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ। (Arjun Singh)উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি এবং অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি হাসপাতালের তিন কর্মীকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং । এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, পাশাপাশি উঠেছে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা ও সরকারি কর্মীদের আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন।
অর্জুন দাবি করেছেন , ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির কোয়ালিটি কন্ট্রোল (QC) বিভাগের জয়েন্ট ওয়ার্কস ম্যানেজার পার্থ সিনহা এবং অ্যাসেম্বলি সেকশনের কর্মী সুজিত মারিককে বাংলা নববর্ষের দিন নোয়াপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে একটি শোভাযাত্রায় দেখা যায়। শুধু তাই নয়, আরও এক কর্মী অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি হাসপাতালের জয়েন্ট ওয়ার্কস ম্যানেজার (সিনিয়র গ্রেড) তড়িৎ রায় তৃণমূলের একটি বড় রাজনৈতিক সভায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও দেখুনঃ “৫০ বছরে বাংলায় এমন ভোট দেখিনি!” কমিশনকে দরাজ সার্টিফিকেট মোদীর
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অভিযোগকারীদের দাবি, এই তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সমর্থক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণ নতুন নয়।
এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস (CCS) কন্ডাক্ট রুলসের কথা। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী কোনও রাজনৈতিক দলের মিটিং, মিছিল বা প্রচারে সরাসরি অংশ নিতে পারেন না। এমনকি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মত প্রকাশ করাও তাঁদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়ে। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারীরা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন চলাকালীন সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রশাসনিক স্তরে তাঁদের ভূমিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। সেই জায়গায় যদি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ ভোটারদের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে গোটা ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছে। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মোটেই শুভ বার্তা নয়।

