
লাভপুর: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট চলাকালীন বীরভূম জেলার লাভপুরে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। (election violence)বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ওঝা ওরফে হাকু দার এজেন্ট দেবাশীষ মণ্ডলকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের হামলায় গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর মাথা ফেটে গেছে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে এবং নির্বাচনী সহিংসতার ছায়া ফের বীরভূমের আকাশে ঘনিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাভপুরের একটি বুথ এলাকায় ভোটগ্রহণ চলার সময় বিজেপির এজেন্ট দেবাশীষ মণ্ডল দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ, তৃণমূলের একদল কর্মী-সমর্থক তাঁকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করে। লাঠি, লোহার রড ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে বিজেপি শিবির দাবি করেছে।
আরও দেখুনঃ রাজ্যে ভোট চলাকালীন তড়িঘড়ি বৈঠক, চাঞ্চল্যকর দাবি শশী পাঁজার
এতে দেবাশীষ মণ্ডলের মাথায় গুরুতর চোট লাগে, রক্তপাত হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে লাভপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন, তবে মাথার চোট গুরুতর হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ওঝা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “এটা গণতন্ত্রের হত্যা।
ভোটের দিনেও তৃণমূল তাদের সন্ত্রাস অব্যাহত রেখেছে। আমার এজেন্টকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে শুধুমাত্র সে বিজেপির হয়ে দায়িত্ব পালন করছিল বলে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, লাভপুরে তৃণমূলের কিছু নেতা-কর্মী আগে থেকেই ভোটারদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। অন্য দলে ভোট পড়লে ‘দেখে নেওয়া’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলেও বিজেপির দাবি।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, “বিজেপি হেরে যাওয়ার ভয়ে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। এটা তাদের পুরনো কৌশল নির্বাচন কমিশনের নজর ঘোরানো।” তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, লাভপুরসহ বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় ভোটের আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। নানুর, দুবরাজপুর, লাভপুরের মতো জায়গায় অতীতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

