
ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম যুদ্ধ-উত্তেজনার মাঝেই সাময়িক স্বস্তি। পাকিস্তানের সরাসরি অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই একটি ঘটনা বিশ্ব কূটনীতিতে ইসলামাবাদকে এক গুরুত্বপূর্ণ ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকায় তুলে এনেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও পাকিস্তানের ভূমিকা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধেই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইরান যাতে একটি ‘সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব’ দেওয়ার সময় পায়, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ও সামরিক চাপ এখনও বহাল রয়েছে।
কেন মধ্যস্থতায় মরিয়া পাকিস্তান? US Iran tensions Pakistan mediation
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের কোনও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই ‘টিকে থাকার লড়াই’। পাকিস্তানের অর্থনীতি আইএমএফ-এর (IMF) শর্তে চলছে। হরমুজ প্রণালীতে অশান্তি বাড়লে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হবে, যা সামলানোর ক্ষমতা দেউলিয়া প্রায় ইসলামাবাদের নেই।
ইরানের সঙ্গে ৯০০ কিমি সীমান্ত রয়েছে পাকিস্তানের। যুদ্ধ বাধলে তার আঁচ সরাসরি বালুচিস্তানে এসে পড়বে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শিয়া-সুন্নি সমীকরণও বড় চিন্তার কারণ।
পাকিস্তানের লাভ ও ভারতের উদ্বেগ
যে দেশকে মার্কিন প্রশাসন একসময় ‘বিপজ্জনক’ তকমা দিয়েছিল, তারাই হঠাৎ বিশ্বমঞ্চে ‘শান্তিদূত’। এই ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ ও আর্থিক প্যাকেজ পাওয়ার আশা দেখছে পাকিস্তান।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় থাকলে ভারতের জন্য জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকবে ঠিকই, তবে বিশ্বমঞ্চে পাক সেনার এই কূটনৈতিক উত্থান এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে ইসলামাবাদের নতুন সখ্য নয়াদিল্লির কৌশলগত চিন্তার কারণ হতে পারে।

