প্রচারে বেরিয়ে বাড়ি বাড়ি হুমকি দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী কবির

kabi-dutta-voter-threat-durgapur-paschim-election-controversy

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিবেশ। (Kabi Dutta)দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কবি দত্তকে ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি নাকি ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন এমনই দাবি বিরোধী শিবিরের। অভিযোগ, প্রচারের সময় কবি দত্ত দাবি করেন যে, কে কোন দলে ভোট দিচ্ছেন তা নাকি ক্যামেরার মাধ্যমে নজর রাখা হবে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা এবং গণতন্ত্রের লঙ্ঘন।

   

তবে এই প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, ভারতে ভোটদান সম্পূর্ণ গোপনীয়। ইভিএম বা ব্যালট কোনও ক্ষেত্রেই একজন ভোটার কাকে ভোট দিলেন তা বাইরে থেকে জানার কোনও উপায় নেই। এটি গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি। ফলে “ক্যামেরায় দেখে ভোট জানা যাবে” এই দাবি বাস্তবে ভিত্তিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ ভারতের তেল সরবরাহকারী দেশের সীমান্ত ১৫ বছর পর খুলল, সরবরাহ কি আরও সহজ হবে?

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের মন্তব্য মূলত ভোটারদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, সেখানে এমন বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটাও বলা হচ্ছে যে, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি থাকলেও তা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, ভোটের গোপনীয়তা ভাঙার জন্য নয়।

অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও রকম ভয়ভীতি বা জবরদস্তি বরদাস্ত করা হবে না। যদি কেউ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বা হুমকি দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়াও, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বুথ এবং তার আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনও ধরনের অনিয়ম, জাল ভোট বা দখলদারি রোখা যায়। প্রশাসনের বক্তব্য, এই নজরদারি ব্যবস্থা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

স্থানীয় ভোটারদের একাংশ জানিয়েছেন, তারা এই ধরনের মন্তব্যে উদ্বিগ্ন হলেও ভোটের দিন নির্ভয়ে ভোট দিতে চান। অনেকেই বলছেন, “আমাদের ভোট আমাদের অধিকার, কেউ সেটা দেখতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।” এই মনোভাবই প্রমাণ করছে যে সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখছেন।