
প্রথম দফা ভোটের আগে নতুন নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন, (Election Commission) যা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক পরিসরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার ভোটের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারদের বুথে যাওয়ার আগে একটি মুচলেকা বা লিখিত অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) এই নতুন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। কমিশনের দাবি, ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে যাতে কোনওরকম বিভ্রান্তি বা ত্রুটি না থাকে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রিসাইডিং অফিসাররা যাতে তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, তা নিশ্চিত করতেই এই মুচলেকা প্রথা চালু করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের দিন বুথে রওনা হওয়ার আগে প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য ২০ মিনিট থেকে আধঘণ্টার একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রশিক্ষণে ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি পুনরায় বুঝিয়ে দেওয়া হবে। যেমন ইভিএম বা ভিভিপ্যাট ব্যবহারের নিয়ম, ভোটার যাচাইকরণ পদ্ধতি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল ইত্যাদি।
এই প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার পরই প্রিসাইডিং অফিসারদের (Election Commission) একটি নির্দিষ্ট ফর্মে সই করতে হবে, যা মূলত মুচলেকা হিসেবে বিবেচিত হবে। সেখানে তাঁদের উল্লেখ করতে হবে যে, তাঁরা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র বুঝে নিয়েছেন, প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করেছেন এবং তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে প্রস্তুত। কমিশনের মতে, এই লিখিত স্বীকৃতি ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা বা বিতর্কের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণে সহায়ক হবে। তবে কমিশনের এই নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। বিশেষ করে বিএলও ঐক্যমঞ্চ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, প্রিসাইডিং অফিসাররা আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ, তাই নতুন করে মুচলেকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের প্রতি অবিশ্বাসেরও ইঙ্গিত দেয়।
বিএলও ঐক্যমঞ্চের একাধিক সদস্যের বক্তব্য, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এমন অতিরিক্ত নিয়ম চাপিয়ে দিলে কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কোনও ত্রুটি বা সমস্যা হয়, তাহলে সেই দায় শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে কি না।

