
অমরাবতী (মহারাষ্ট্র): মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার পরতওয়াড়া এলাকায় এক ভয়ংকর ঘটনা সামনে এসেছে যা পুরো রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। (Amravati)১৯ বছরের যুবক আয়ান আহমেদ তানভীর (ওরফে আয়াজ) নামে এক অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সে প্রায় ১৮০ জন নাবালিকা মেয়েকে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে যৌন শোষণ করেছে, তাদের অশ্লীল ভিডিও তুলেছে এবং সেগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেল করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে ৩৫০টিরও বেশি অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি ভিডিও সে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তের বাড়ির অবৈধ অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ দেখে অনেকে বলছেন, এটা দ্রুত বিচারের প্রতীক। পুলিশের তদন্তে এখনও পর্যন্ত আটজন নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু অভিযোগ অনুসারে ভুক্তভোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।
মেয়েদেরকে হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে মুম্বই ও পুনে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে তাদের অশ্লীল ভিডিও বানান হত। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও শোষণ চালানো হতো।আয়ান আহমেদ তানভীরকে গ্রেফতারের পর পুলিশ ২১ এপ্রিল পর্যন্ত তার পুলিশ হেফাজতের আদেশ পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তথ্য প্রযুক্তি আইন ও POCSO আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ বাংলায় কয়লা সিন্ডিকেট চক্রে ৬৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি! দাবি ইডির
তদন্তে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বিজেপি সাংসদ অনিল বোন্ডে এই ঘটনায় SIT তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসও তদন্তের উপর নজর রাখছেন।এই ঘটনায় অমরাবতীর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একজন ভুক্তভোগী মেয়ের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা তো সাধারণ পরিবার। মেয়েকে স্কুলে পড়তে পাঠাই। কে জানত একটা ছেলে এভাবে তার জীবন নষ্ট করে দেবে।
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ে মেয়েরা কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে।” স্থানীয়রা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধকার দিক এখন আর লুকিয়ে নেই। অনেক অভিভাবক এখন তাদের সন্তানদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিওগুলো সরানোর চেষ্টা চলছে এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। সাইবার সেলও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। তবে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এত বড় নেটওয়ার্ক কীভাবে এতদিন চলল? কোনো সহযোগী ছিল কি না? তদন্ত আরও গভীরে যাচ্ছে।

