নির্বাচনে অধীরের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী নাড়ুগোপালের

naru-gopal-mukherjee-adhir-ranjan-chowdhury-election-prediction

মুর্শিদাবাদ: বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। (Naru Gopal )বিজেপির বর্তমান বিধায়ক সুব্রত মৈত্র, কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নাড়ু গোপাল মুখোপাধ্যায় তিনজনের মধ্যে এখন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল প্রার্থী নাড়ু গোপাল মুখোপাধ্যায় অধীর চৌধুরীকে নিয়ে সরাসরি ভবিষ্যৎবাণী করে বসলেন। নাড়ু গোপাল বললেন, “অধীর রঞ্জন চৌধুরী আর জেতার যোগ্য প্রার্থী নন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি এই আসন হারিয়েছেন, ২০২১ সালেও বিধানসভায় জিততে পারেননি। গত পাঁচ বছরে তাঁর ভোটব্যাঙ্ক একেবারে ভেঙে গেছে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ু গোপাল এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তিনি মনে করেন, অধীর চৌধুরীর দিন শেষ হয়ে এসেছে।বহরমপুর একসময় কংগ্রেসের দুর্গ ছিল। অধীর রঞ্জন চৌধুরী দীর্ঘদিন এই এলাকা থেকে সাংসদ ছিলেন।

   

পাঁচবারের সাংসদ হিসেবে তিনি ‘রবিনহুড’ খ্যাতি পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান। এরপর ত্রিশ বছর পর বিধানসভায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নাড়ু গোপালের মতে, এটা অধীরবাবুর ‘নিজের বেঁচে থাকার লড়াই’ মাত্র। নাড়ু গোপাল বলেন, “বহরমপুরের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। অধীরদা অনেকদিন ধরে এখানে ছিলেন, কিন্তু কী দিয়েছেন?

চাকরি, উন্নয়ন, যুবকদের ভবিষ্যৎ সবকিছুতে ব্যর্থতা। গত পাঁচ বছরে তাঁর সমর্থন একেবারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটব্যাঙ্ক ভেঙে গেছে। এখন তিনি শুধু নিজেকে বাঁচাতে লড়ছেন।” তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই কথায় উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। একজন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বলেন, “নাড়ুদা ঠিকই বলেছেন। অধীরবাবু একসময় শক্তিশালী ছিলেন, কিন্তু এখন আর সেই জাদু নেই। ২০২১-এ বিধানসভায় কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল।

২০২৪-এ লোকসভায়ও হার। মানুষ এখন তৃণমূলের উন্নয়ন দেখছে।”অন্যদিকে কংগ্রেস শিবির এই মন্তব্যকে ‘অহংকারী’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অধীর চৌধুরীর সমর্থকরা বলছেন, “বহরমপুর অধীরবাবুরই জায়গা। তিনি এখানকার মাটি চেনেন, মানুষ চেনেন। নাড়ু গোপাল যতই কথা বলুন, শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই সব বলবে।” বহরমপুরে এখন প্রচার জমজমাট। নাড়ু গোপাল প্রতিদিন এলাকায় ঘুরে মানুষের সমস্যা শুনছেন, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমি বহরমপুরের ছেলে। এখানকার পুরসভা চালিয়ে দেখিয়েছি কাজ করতে পারি। অধীরদা অনেকদিন কথা বলেছেন, কিন্তু কাজের ফল মানুষ দেখেনি। এবার সময় এসেছে বদলের।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বহরমপুর এবার সত্যিকারের লড়াইয়ের ময়দান। বিজেপির সুব্রত মৈত্র ২০২১ সালে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের দখল ভেঙে জিতেছিলেন। এখন তৃণমূল ও কংগ্রেস দুজনেই চাইছে সেই আসন ফিরে পেতে। নাড়ু গোপালের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে তৃণমূল অধীর চৌধুরীকে আর কোনো ফ্যাক্টর মনে করছে না।