দিনহাটার নিষিদ্ধপল্লীতে দিনে দুপুরে বন্দুক নিয়ে দৌরাত্ব বিজেপি প্রার্থীর ছায়াসঙ্গীর

dinhata-violence-bjp-candidate-ajay-roy-armed-attack-controversy-2026

দিনহাটা: কোচবিহারের দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের মুখে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। (Dinhata violence)নিষিদ্ধপল্লীতে গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতীর হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে মহিলারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে।

অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের ঘনিষ্ঠদের একটি দল প্রথমে দিনহাটার ওই নিষিদ্ধপল্লীতে এসে স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। মহিলাদের দাবি, প্রথমে মৌখিক অশান্তি হলেও পরে ওই যুবকেরা হুমকি দিয়ে যায় যে, রাতে তারা ফিরে এসে ‘হিসাব মিটিয়ে’ নেবে। সেই মতোই গভীর রাতে প্রায় পাঁচটি বাইকে করে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে তাণ্ডব চালায়।

   

আরও দেখুনঃ বেআইনি কাজ করেছে ইডি! আইপ্যাক কাণ্ডে মত আইনজীবী বিকাশ পাহওয়ার

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতীরা শুধু মহিলাদেরই নয়, এলাকায় থাকা অন্যান্য বাসিন্দাদের ওপরও হামলা চালায়। এমনকি শিশুদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যখন দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় মহিলারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে থানায় যান তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উদয়ন গুহ। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “গতকাল রাতে যারা এই তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তারা সকলেই বিজেপি প্রার্থী অজয়ের রায়ের ছায়াসঙ্গী।”

উদয়ন গুহ আরও প্রশ্ন তোলেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, “যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের পুলিশ সাধারণ মানুষকে তল্লাশির নামে হেনস্থা করছে, সেখানে এত রাতে পাঁচটি বাইকে করে হেলমেট ছাড়াই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা কীভাবে ঢুকে পড়ল?” তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ট সন্দেহজনক এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় মহিলারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের কথায়, “আমরা রাতে ঘুমোতে পারছি না। কখন আবার কারা এসে হামলা চালাবে, সেই ভয়ে আতঙ্কে আছি।” তাঁরা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনের মুখে এই ধরনের হিংসার অভিযোগ ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।