
কলকাতা: কাকে ভোট দিচ্ছেন সব জানতে পারব। ঠিক এইভাবেই হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে বিধাননগরের তৃণমূল নেতা নির্মল দত্তকে (Nirmal Dutta)। কলকাতার সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা নির্মল দত্তের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে। বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের (বিএমসি ওয়ার্ড নম্বর ৩৮) একটি জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে নির্মল দত্ত বলেন, “আধার কার্ড আর ভোটার আইডি লিঙ্ক করা আছে। কাকে ভোট দিচ্ছেন সব জানতে পারব। একটা অ্যাপ আছে, তার মাধ্যমে আমরা জেনে নেব।”
I received this video from a source, and if it is authentic, it raises serious concerns.
TMC leader Nirmal Dutta from Salt Lake’s Duttabad is seen in the video allegedly stating during a speech in the 116 Bidhannagar Assembly constituency, Ward number 38 of BMC : “Aadhaar card… pic.twitter.com/Ypj7MaDQSR
— Nishant Azad/निशांत आज़ाद🇮🇳 (@azad_nishant) April 14, 2026
এই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হতেই সরব হয়েছে বিরোধীদল বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে ভোট মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সেখানে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তারা এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’-এর আরেকটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
আরও দেখুনঃ বুথে ‘প্যারালাল মেশিনারি’ তৈরি রাখুন! পিংলা থেকে হুঁশিয়ারি মমতার
নির্মল দত্ত দত্তাবাদ এলাকার এক পরিচিত তৃণমূল নেতা। স্থানীয় স্তরে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে জানা যায়। ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে আধার ও ভোটার তালিকা যুক্ত হয়ে গেছে, ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছে তা সহজেই জানা সম্ভব। তবে বাস্তবে আধার কার্ড ও ভোটার আইডির মধ্যে এমন কোনো লিঙ্ক নেই যা দিয়ে কোনো ব্যক্তিগত ভোটাধিকারের তথ্য বের করা যায়।
ভোট গোপনীয়তা ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম মূল স্তম্ভ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি ভোটারের গোপন ভোটের তথ্য জানতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভোটারদের মনে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে বিধাননগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব অভিযোগ করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস মানুষকে নির্বাচনের আগে প্রভাবিত করে এবং তাদের ধমকে চমকে তৃণমূলকে ভোট দিতে বাধ্য করে কিংবা ভোট দিতে যেতে দেয় না।
তবে এবারের নির্বাচনে যথেষ্ট কেন্দ্রিয়বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সারা রাজ্য জুড়ে এবং তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং অভয় দিচ্ছেন। কিন্তু এই আবহেই খোদ কলকাতার মধ্যে এবং রাজ্যের দমকলমন্ত্রীর কেন্দ্রে এই ধরণের ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারে তা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহল। বিজেপি নেতৃত্ব এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে এবং মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে এই তৃণমূল নেতাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছে।

