
তেল আবিব: আমেরিকা যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করলেও থামছে না ইসরায়েল। (Israel strikes Hezbollah)লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহর একাধিক সদর দফতরে আকস্মিক বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বড় সাফল্য দাবি করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, “লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সদর দফতর গুলোতে আকস্মিক হামলায় শত শত হিজবুল্লাহ জঙ্গি আক্রান্ত হয়েছে। এটি অপারেশন বাজার্স-এর পর হিজবুল্লাহ যে সবচেয়ে বড় একক আঘাত পেয়েছে, তা-ই।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কাটজ আরও বলেন, এই অভিযানে হিজবুল্লাহর কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেমের উপর বড় ধরনের আঘাত করা হয়েছে। লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে চালানো এই হামলাকে তিনি “সবচেয়ে কেন্দ্রীভূত ও শক্তিশালী আঘাত” বলে বর্ণনা করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার ও সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে নির্ভুল আক্রমণ চালানো হয়েছে।এই হামলার পটভূমিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, হিজবুল্লাহ যাতে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করতে না পারে, সেজন্যই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘৪ মে বাংলায় ভাগোয়া হোলি হবে’! আলিপুরদুয়ার থেকে তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক নবীনের
গত কয়েক মাস ধরে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল কড়া অবস্থান নিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কাটজ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “হিজবুল্লাহ যদি নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করে বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরি করে, তাহলে তার উত্তর হবে অপরিসীম শক্তিতে।”লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলায় হিজবুল্লাহর উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ শতাধিক সদস্য হতাহত হয়েছে। তবে লেবাননের সূত্রগুলো এখনও বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, তারা এই হামলার জবাব দেবে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে বড় ধরনের হামলার পর এটি সবচেয়ে বড় অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। লেবাননের সরকার বলেছে, এই হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং বেসামরিক এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই আক্রমণ করেছে।

