
নাগপুর: নাগপুরে ছড়াল উত্তেজনা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (explosives recovery)-এর সদর দফতর থেকে মাত্র প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। নাগপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে এই ঘটনায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীতে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বম্ব ডিস্পোজাল স্কোয়াড (বিডিএস) এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।ঘটনাটি ঘটেছে নাগপুরের সিএ রোড এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেখান থেকে ১৫টি জেলাটিন স্টিক, ৫৮টিরও বেশি ডেটোনেটর এবং কানেক্টরসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। আরএসএস সদর দফতর থেকে মাত্র দেড়-দুই কিলোমিটার দূরত্বে এই বিস্ফোরক পাওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকৃত স্থানটি জামা মসজিদ থেকে মাত্র ২০০ মিটার এবং পোদ্দারেশ্বর রাম মন্দির থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। এই সংবেদনশীল এলাকায় এমন বিস্ফোরকের উপস্থিতি শহরজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ “বিজেপির কো-অর্ডিনেটরের মতো ঘুরছেন”, নন্দীগ্রামে সিইও সফর নিয়ে কটাক্ষ কুণালের
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা ঘিরে ফেলে। বম্ব ডিস্পোজাল স্কোয়াড সতর্কতার সঙ্গে বিস্ফোরকগুলো সরিয়ে নেয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখছেন কোনো আঙুলের ছাপ, ডিএনএ বা অন্য কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এগুলো কোনো বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। তবে এখনও কোনো সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য জঙ্গি যোগাযোগের দিকেও নজর রাখছেন।
নাগপুর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমরা বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আরএসএস সদর দফতর, দীক্ষাভূমি, বিমানবন্দর, রেলস্টেশনসহ শহরের সব সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।” এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, “এমন জায়গায় বিস্ফোরক পাওয়া সত্যিই উদ্বেগজনক।
আমরা চাই দ্রুত তদন্ত শেষ হয়ে দোষীদের শাস্তি হোক।”এই ঘটনার পর নাগপুর পুলিশ কমিশনারেট সতর্কতা জারি করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে। যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। আরএসএস সদর দফতরের আশেপাশেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘের কর্মীরা বলছেন, “আমরা শান্তি চাই। কিন্তু যদি কেউ অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

