
কালিয়াচক: ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৭ জন বিচাপতিকে হেনস্থার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গবাসীর নজর কেড়েছে। (NIA investigation)শুধু তাই নয় কালিয়াচক এলাকায় বিশৃঙ্খলা এবং হিংসায় উস্কানো দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে মোফাক্কেরুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী। এই আবহেই তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা NIA । তদন্তের দ্বিতীয় NIA টিম মালদার এসপি অফিসে পৌঁছেছে। সেখান থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করবে NIA।
৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এনআইএ-র একটি বড় টিম মালদায় পৌঁছায়। প্রায় ২৪ থেকে ৪০ জনের এই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন একজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। টিম প্রথমে মোথাবাড়ি ও কালিয়াচক থানায় গিয়ে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে। তারা কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসেও পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থলে পাথর ছোড়া, যানবাহনে হামলা এবং জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১ এপ্রিল বিকেল থেকে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বিডিও অফিসের সামনে জড়ো হন। প্রথমে তাঁরা বিচারিক আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে চান। অনুমতি না পেয়ে বিক্ষোভ তীব্র হয়। দুপুর ৪টার দিকে দু’টি গেট ঘিরে ফেলে হাজার হাজার মানুষ। ফলে অফিসের ভিতরে আটকে পড়েন সাত বিচারিক আধিকারিক। রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তাঁরা অফিসের ভিতরে ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে। এ সময় আধিকারিকদের গাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ একে ‘বিচার বিভাগের উপর সরাসরি আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং NIA তদন্তের নির্দেশ দেন। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইতিমধ্যে ১৭ থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে আছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) এক প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি।
সবচেয়ে আলোচিত গ্রেফতার হল অ্যাডভোকেট মোফাক্কারুল ইসলাম, তিনিই এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। তিনি রায়গঞ্জ আদালতে আইনচর্চা করতেন এবং পরে কলকাতা হাইকোর্টে যুক্ত ছিলেন। ৩ এপ্রিল বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে বেঙ্গালুরুর ফ্লাইটে পালানোর চেষ্টাকালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে NIA কে রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। তাই এখন দেখার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে কি উঠে আসে।

