
ওয়াশিংটন: কারাজের ঐতিহ্যবাহী এবং নির্মীয়মাণ বি১ (B1) সেতুতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলার পর এবার চরম প্রত্যাঘাতের পথে ইরান। ‘ইটের বদলা পাটকেল’ নীতি অনুসরণ করে এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুকে নিশানা করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিল তেহরান।
নিশানায় কোন কোন সেতু?
সংবাদসংস্থা আনাদোলু এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ‘ফার্স’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কারাজের সেতু ধ্বংসের বদলা নিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরান। যে সেতুগুলির তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
কুয়েত: শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সি ব্রিজ।
সৌদি আরব ও বাহরিন: দুই দেশের মধ্যে সংযোগকারী বিখ্যাত কিং ফাহাদ কজওয়ে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE): শেখ জায়েদ ব্রিজ এবং শেখ খলিফা ব্রিজ।
জর্ডন: কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ এবং আবদউন ব্রিজ।
কারাজে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি Iran Gulf bridge retaliation
বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের কারাজ শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বি১ সেতুতে দু’দফায় বিধ্বংসী হামলা চালায় মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী। রাজধানী তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নির্মীয়মাণ সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুমকির পরই এই হামলা চালানো হয়। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে ইরান যদি শান্তি আলোচনায় অংশ না নেয়, তবে তেহরানকে একেবারে “প্রস্তর যুগে” ঠেলে দেওয়া হবে।
মর্মান্তিক প্রাণহানি ও সঙ্ঘাতের প্রেক্ষাপট
ইরানের আলবোর্জ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ঘোদরাতুল্লাহ সইফ জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৯৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ওই হামলার জেরে গোটা অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি এবং পরিকাঠামোগত ধ্বংসলীলা চলেছে। তার পালটা জবাব দিতে এর আগে উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে থাকা মার্কিন-ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলিতেও হামলা চালিয়েছিল তেহরান। এবার সরাসরি সেতুগুলি নিশানায় আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের।

