
কলকাতা: খোদ মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে তাঁকেই হারানোর হুঙ্কার! বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সাফ কথা, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য৷ এই একটি কেন্দ্র থেকেই গোটা বাংলায় পরিবর্তনের ঝড় উঠবে।
‘নিজের ঘরে ঢুকেই হারাতে হবে’
এদিন দুপুরে হাজরা মোড় থেকে এক বিরাট রোড-শো করেন অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারী। প্রচারের ফাঁকে শাহ জানান, “আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি, মমতাকে তাঁর নিজের ঘরে ঢুকেই হারাতে হবে।” ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে শাসকদলের সুপ্রিমোকে চ্যালেঞ্জ জানানোই যে বিজেপির মূল রণনীতি, তা স্পষ্ট করে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে মমতা হেরেছেন। এবার গোটা বাংলার পাশাপাশি ভবানীপুরেও হারবেন।”
দুর্নীতি ও বেকারত্ব নিয়ে তোপ Amit Shah challenges Mamata Banerjee
রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে শাহের অভিযোগ, বাংলায় এখন যুবসমাজের জন্য কোনও কর্মসংস্থান নেই। তিনি বলেন, “যুবকদের চাকরি নেই, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির নয়া রেকর্ড গড়েছেন।” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলার মানুষ এখন একটি বিকল্প সরকার চাইছেন। শাহের কথায়, “বাংলায় অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপির সরকার গড়া।”
১৭০ আসনের লক্ষ্য ও ‘সোনার বাংলা’
বিজেপির উন্নয়নমূলক এজেন্ডা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁদের লক্ষ্য এই রাজ্যকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলা। তাঁর আত্মবিশ্বাসী দাবি, “আগামী ৫ মে বাংলায় বিজেপি সরকার আসতে চলেছে।” রাজ্যে অন্তত ১৭০টি আসন জেতার লক্ষ্যমাত্রার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। ভবানীপুরের ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন, “ভবানীপুরের মানুষ যদি এই একটি আসনে আমাদের জেতান, তাহলে বাংলায় এমনিতেই পরিবর্তন হয়ে যাবে।”
শুভেন্দুর মনোনয়ন ও শক্তিপ্রদর্শন
এদিন দুপুরে হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া রোড-শোতে শাহ-শুভেন্দুর পাশাপাশি ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। ভবানীপুরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে মিছিল শেষ হয় সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে। এরপর সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে এটি ছিল বিজেপির এক বিরাট শক্তিপ্রদর্শন। দলীয় সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই কেন্দ্রে প্রচারে আসতে পারেন।

