
কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। এবার খাস মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ঘিরে তৈরি হলো তীব্র বিতর্ক। নয়া অফিসার সুরজিৎ রায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘ঘনিষ্ঠ’, এই অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস।
কমিশন বনাম তৃণমূল: সংঘাতের আবহে ভবানীপুর
ভোট ঘোষণার রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (RO) একসঙ্গে বদলি করার নির্দেশ দেয় কমিশন। এই ৭৩ জনের তালিকায় রয়েছেন একাধিক মহকুমাশাসক বা এসডিও (SDO)। তবে সবথেকে বেশি শোরগোল পড়েছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের পথ কণ্টকাকীর্ণ করতেই পরিকল্পিতভাবে পছন্দের অফিসার বসিয়েছে কমিশন। শাসকদলের দাবি, নয়া রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায় আদতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই কাজ করছেন।
কেন সুরজিৎ রায়কে নিয়ে আপত্তি?
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী। একজন প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণ থেকে শুরু করে গোটা ভোট প্রক্রিয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব থাকে রিটার্নিং অফিসারের ওপর। তৃণমূলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সুরজিৎ রায়কে কেন এই স্পর্শকাতর কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হলো? কমিশন কি তবে নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
কমিশনের নজরে ২৯৪টি আসন
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই সাধারণত একজন করে রিটার্নিং অফিসার থাকেন। ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার একলপ্তে ৭৩ জনকে সরিয়ে নতুনদের নিয়োগ করেছে কমিশন। কিন্তু ভবানীপুরের মতো ভিভিআইপি (VVIP) কেন্দ্রে এই রদবদল নিয়ে ঘাসফুল শিবিরের আপত্তিতে অস্বস্তিতে কমিশনও।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, এই দুই দফায় বঙ্গে বিধানসভা ভোট। তার আগে প্রশাসনিক স্তরে এই ব্যাপক ওলটপালট ভোটারদের মনে ও রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

