রণক্ষেত্রে শান্তির বার্তা! ইরানকে ১৫ দফার কড়া শর্ত দিয়ে শান্তি প্রস্তাব আমেরিকার

Iran Israel War Peace Plan

কলকাতা: টানা চার সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের রেশ কি এবার কাটতে চলেছে? বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে এখন এই একটিই প্রশ্ন। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে এবার সরাসরি তেহরানকে ১৫ দফার একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠাল আমেরিকা। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হল ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা, ছায়া গোষ্ঠীগুলিকে মদত দেওয়া বন্ধ করা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তৈল ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় উন্মুক্ত করা।

কী আছে আমেরিকার ১৫ দফার প্রস্তাবে?

সূত্রের খবর, এই শান্তি পরিকল্পনায় ইরানের জন্য যেমন কঠোর শর্ত রয়েছে, তেমনই রয়েছে কিছু টোপ-

   

সামরিক নিয়ন্ত্রণ: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট সামরিক পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে।

পরমাণু বিধি-নিষেধ: পরমাণু কর্মসূচিতে চরম কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জের নজরদারিতে অসামরিক পরমাণু প্রকল্প চালানোর অনুমতি দেওয়া হতে পারে, যার জ্বালানি কেন্দ্র থাকবে ইরানের বাইরে।

যুদ্ধবিরতি: আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে এক মাসের দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আর্থিক প্যাকেজ: ইরান শর্ত মেনে নিলে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বাণিজ্যিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, আসরে কুশনার

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, সরাসরি নয় বরং পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদ ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। মজার বিষয় হল, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি পোস্ট শেয়ার করে এই আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই পাকিস্তানে এই বৈঠক শুরু হতে পারে, যেখানে আমেরিকার তরফে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত থাকতে পারেন।

পুরনো বোতলে নতুন মদ?

কূটনীতিকদের একাংশ অবশ্য বলছেন, এই ১৫ দফার পরিকল্পনা খুব একটা নতুন কিছু নয়। গত ২০২৫ সালের মে মাসে যে পরমাণু চুক্তি ভেস্তে গিয়েছিল, অনেকটা সেই ধাঁচেই তৈরি হয়েছে এই খসড়া। সেবার ইজরায়েলি হামলার জেরে আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবারের প্রস্তাবেও ইউরেনিয়াম মজুত রাখা বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ওপর যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে, তাতে তেহরান কতটা রাজি হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ইজরায়েলের বিস্ময় ও মার্কিন সেনা মোতায়েন

ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সবথেকে বেশি অবাক হয়েছে তেল আবিব। ইজরায়েলি আধিকারিকদের মতে, তাঁরা যখন ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, তখন এই শান্তি প্রস্তাব তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিত। এদিকে শান্তির কথা বললেও আমেরিকা কিন্তু রণক্ষেত্র থেকে পা সরাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার সঙ্গে আরও ৩ হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে পেন্টাগন।

উপসংহার: ইরান কি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার এই ‘কঠিন’ শর্ত মেনে নেবে? নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শান্তি প্রস্তাব কেবলই কূটনৈতিক চাল? আপাতত গোটা বিশ্বের নজর পাকিস্তানের প্রস্তাবিত সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের দিকে।