কোনও আলোচনা হয়নি! ফের ট্রাম্পের মিথ্যাচার ফাঁস করল ইরান

trump-iran-talks-middle-east-tension-2026-diplomacy-update

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতেই চাইছে না। এর মধ্যেই নতুন করে মিলছে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত। তবে তা ঘিরে রয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার চেষ্টা করছে বলে দাবি উঠেছে, যদিও তেহরান সেই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলের তিনজন শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, আমেরিকা ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তির পথে এগোতে চাইছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনা কমানো। তবে ওই আধিকারিকরাই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এই আলোচনার সফলতা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাদের মতে, আমেরিকা যে শর্তগুলি সামনে রাখতে পারে, তা ইরান সহজে মেনে নেবে না।

   

আরও দেখুনঃ দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলেও উত্তর বঙ্গে জারি কমলা সতর্কতা

মূলত, ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি হতে পারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে আনা। এই দুটি বিষয়ই দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বিরোধের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। ফলে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, এই ইস্যুগুলিই আবার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনা হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। সেই সময়ই শুরু হয় মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ইরানে প্রায় ১,৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা এবং মিসাইল কর্মসূচি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।

এই অস্থিরতার মধ্যেই সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে আশাবাদী সুর শোনান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে “খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সম্পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগোতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে দ্রুত খারিজ করে দেয় ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এমন কোনো আলোচনা আদৌ হয়নি। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের চিত্রই তুলে ধরে। কূটনৈতিক স্তরে যে দূরত্ব এখনও অনেকটাই রয়ে গেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই ঘটনায়।

তবে পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে তখন, যখন ট্রাম্প হঠাৎ করেই ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ‘ট্রুথ সোশ্যাল এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতরকে পাঁচ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে তিনি “গঠনমূলক আলোচনার ফল” বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প আরও জানান, এই স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ভবিষ্যতের আলোচনার অগ্রগতির ওপর। অর্থাৎ, আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোলে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানো হতে পারে। তবে ইরানের তরফে এই পদক্ষেপকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের কঠোর সতর্কবার্তার ফলেই আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।