কলকাতা: ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িকভাবে উত্তেজনার পারদ কমলেও, বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতির অলিন্দে নতুন এক শব্দ ঘোরাফেরা করছে, ‘TACO’ (টাকো)।
সাধারণত মেক্সিকান খাবারের নাম হিসেবে পরিচিত হলেও, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক বাজারে ‘TACO’ এখন মার্কিন নীতির একটি বিশেষ ধরণ বা ‘প্যাটার্ন’ বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আসলে একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ, যা বাজারের অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
কী এই ‘TACO’?
ওয়াল স্ট্রিটে জন্ম নেওয়া এই শব্দটির পূর্ণরূপ বা ব্যাখ্যা হল- ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তিনি প্রথমে কোনও বিষয়ে চরম আগ্রাসী অবস্থান নেন বা হুমকি দেন (যেমন ইরানের ওপর হামলা বা শুল্ক যুদ্ধ), যার ফলে বিশ্ববাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শেয়ার বাজারের পতন ঘটে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। কিন্তু ঠিক যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখনই তিনি হঠাৎ পিছু হটেন বা আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে স্থিতাবস্থা ফেরান। এই ‘আগ্রাসন-আতঙ্ক-পিছু হটা’ চক্রটিকেই বিনিয়োগকারীরা ‘TACO’ বলছেন।
ইরান সংকট ও ‘টাকো’র প্রতিফলন Trump TACO strategy
বর্তমানে ইরান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি ঠিক এই ছক মেনেই চলছে-
১. আগ্রাসন: ট্রাম্প ও ইসরায়েলের কড়া হুঁশিয়ারিতে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
২. আতঙ্ক: বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক দেশে বিদ্যুৎ বাঁচাতে সপ্তাহে চার দিন কাজের নিয়ম চালু হয় এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার মজুত করার হিড়িক পড়ে যায়।
৩. বাজার যখন খাদের কিনারে, ঠিক তখনই ট্রাম্প ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠল এবং তেলের দাম কমতে শুরু করল।
বিনিয়োগকারীদের নতুন হাতিয়ার
ওয়াল স্ট্রিটের ট্রেডাররা এখন এই ‘TACO’ প্যাটার্নকেই মুনাফা করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন। যখনই ট্রাম্প কোনো বড় হুমকি দিচ্ছেন, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনছেন (কারণ তারা জানেন তিনি পিছু হটবেন)। আবার যখন বাজার চাঙ্গা হচ্ছে, তখন তারা শেয়ার বিক্রি করে লাভ তুলে নিচ্ছেন।
নাইন নিউজের (9News) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাজার এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অর্থাৎ, বাজারের বড় পতন দেখলেই তিনি নীতি পরিবর্তন করেন।
এটি কি স্থায়ী সমাধান?
ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখনো ধোঁয়াশায় ঘেরা। ইরান কোনো সক্রিয় আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক যুদ্ধের ক্ষেত্রে পিছু হটা সহজ হলেও, যুদ্ধের ময়দান থেকে এভাবে বেরিয়ে আসা কঠিন। যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত থাকে, তবে এই ‘TACO’ কৌশল আর কাজ নাও করতে পারে।
মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্ত কি দীর্ঘমেয়াদী রণকৌশল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, নাকি ওয়াল স্ট্রিটের সূচকের ওঠা-নামার ওপর ভিত্তি করে? আপাতত বাজার স্থিতিশীল হলেও, আগামীর দিনগুলো ট্রাম্পের এই ‘পিছু হটা’র নীতির বড় পরীক্ষা নেবে।



