কীর্তনের আসরে মৌলবাদী আক্রমণ! নির্বাচন আবহে হুগলিতে ছড়াল আতঙ্ক

হুগলি: হুগলি জেলার বৈচিগ্রামে একটি মন্দিরে কীর্তনের আসরে মৌলবাদী আক্রমণের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। (kirtan attack)নির্বাচনের আবহে এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর…

hooghly-baichigram-kirtan-attack-election-tension-2026

হুগলি: হুগলি জেলার বৈচিগ্রামে একটি মন্দিরে কীর্তনের আসরে মৌলবাদী আক্রমণের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। (kirtan attack)নির্বাচনের আবহে এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গতকাল রাতে, অর্থাৎ ২২ মার্চ ২০২৬-এর সন্ধ্যা-রাত্রির দিকে, বৈচিগ্রাম এলাকায় একটি হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন চলছিল। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় ভক্তবৃন্দ ও কীর্তনশিল্পীরা ভক্তিময় পরিবেশে হরিনাম সংকীর্তন করছিলেন। হঠাৎই একদল লোক লাঠি-সোঁটা নিয়ে এসে আক্রমণ চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা নিজেদেরকে ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠীর সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।আক্রমণের সময় কীর্তনের তালে তাল মিলিয়ে ঘণ্টা-খোল বাজছিল, ভক্তরা হরে কৃষ্ণ হরে রাম ধ্বনি তুলছিলেন। হঠাৎ করেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। আক্রমণকারীরা লাঠি দিয়ে কীর্তনশিল্পীদের মারধর শুরু করে। কয়েকজন শিল্পী ও ভক্ত গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকজনের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে এলাকাবাসীর মনে ভয়ের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় একজনকে হাতে নাতে ধরে ফেলে মন্দির কর্তৃপক্ষ। আক্রমণকারীরা মুর্শিদাবাদ থেকে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে ।

   

আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে চাঞ্চল্য! পুলিশের জালে ISI মহিলা চর

আক্রমণকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় হিন্দু যুবকরা তৎপর হয়ে একজনকে ধরে ফেলেন। তাকে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম-পরিচয় যাচাই করে তদন্ত শুরু হয়েছে।এই ঘটনার পর বৈচিগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকে রাতে বাইরে বের হচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে, কিন্তু নির্বাচনের মুখে এমন আক্রমণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বড় ধাক্কা।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “আমরা শুধু ভগবানের নাম করছিলাম। কোনো উস্কানি ছিল না। হঠাৎই তারা এসে মারতে শুরু করল। আমাদের মেয়ে-বউরাও ভয়ে কাঁপছে।” আরেকজন বলেন, “একজনকে ধরেছি, কিন্তু বাকিরা পালিয়ে গেছে। পুলিশ যদি কড়া হাতে না নেয়, তাহলে এমন ঘটনা আরও বাড়বে।”পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের চন্দননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়, তবে কয়েকজনের মাথায় ও শরীরে গুরুতর চোট লেগেছে।

স্থানীয় বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ধর্মীয় হিংসা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে লিখছেন, “নির্বাচনের আগে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বাড়ছে।

এটা কি ইচ্ছাকৃত?” আবার কেউ কেউ শান্তির আহ্বান জানিয়ে বলছেন, “সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে, কিন্তু আক্রমণকারীদের ছাড় দেওয়া যাবে না।” জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত চলছে। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।