
স্থল ছেড়ে এখন আক্রমণ সমুদ্রেও। হরমুজ প্রণালীর কাছে থাই পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ময়ুরী নারী (Mayuree Naree) অজানা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে। এই আক্রমণে জাহাজে আগুন লেগে যায়। ওমানি নৌবাহিনীর সাহায্যে ২০ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু এখনও ৩ জন নিখোঁজ। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলতে থাকা যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে চিন এবং রাশিয়া ছাড়া কোনো দেশের ক্যারিয়ারকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিল ইরান।
ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) নিশ্চিত করেছে যে আজ একই দিনে একাধিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে।বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালীর উত্তরে ওমানের কাছে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে এই ঘটনা ঘটে। ময়ুরী নারী নামের ৩০,১৯৭ ডিডব্লিউটি বাল্ক ক্যারিয়ারটি প্রেশাস শিপিং কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং থাই পতাকা উড়িয়ে UAE থেকে ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
জাহাজটি খালি অবস্থায় ছিল। অজানা প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে স্টার্নের ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগে যায়। UKMTO-র রিপোর্ট অনুসারে জাহাজটি সাহায্য চেয়ে ক্রুকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে। ওমানি ফোর্স দ্রুত পৌঁছে ২৩ জন ক্রুর মধ্যে ২০ জনকে উদ্ধার করে, কিন্তু ৩ জন এখনও নিখোঁজ। থাইল্যান্ড সরকার নিশ্চিত করেছে যে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। আগুন নেভানো হয়েছে এবং পরিবেশগত কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
আরও দেখুনঃ আকাশপথেই রিফুয়েলিং করে ইতিহাস বি-২১ র
একই দিনে হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে আরও দুটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও একটি জাপানি পতাকাবাহী কনটেইনার শিপ ওয়ান ম্যাজেস্টি রাস আল খাইমাহের উত্তর-পশ্চিমে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে হামলার শিকার হয়েছে। আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ার দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে ৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে আক্রান্ত। UKMTO এই তিনটি ঘটনা নিশ্চিত করেছে এবং জাহাজগুলোকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাফিক অনেক কমে গেছে। ইরান হুমকি দিয়েছে যে আমেরিকা-ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা জাহাজে আঘাত করবে। গত কয়েকদিনে অন্তত ১০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। US সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে তারা হরমুজের কাছে ১৬টি ইরানি মাইন-লেয়িং জাহাজ ধ্বংস করেছে।
এতে প্রণালীতে মাইন পাতার আশঙ্কা বেড়েছে।এই ঘটনা গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তেলের দাম বাড়ছে, ইউরোপে গ্যাসের দামও লাফ দিয়েছে। জাহাজ মালিকরা এখন প্রণালী এড়িয়ে যাচ্ছে, যা সাপ্লাই চেইনকে আরও জটিল করছে। থাইল্যান্ডের সরকার ক্রু উদ্ধারে সক্রিয়, এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। UKMTO সব জাহাজকে সতর্ক থাকতে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ রিপোর্ট করতে বলেছে।

