
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা উত্তেজনার আবহে কঠোর পদক্ষেপ নিল বাহরাইন সরকার (Bahrain)। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে পাঁচজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তরা হামলার দৃশ্য ধারণ করে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ইরানের হামলাকে প্রশংসা করেছেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে বাহরাইনের অ্যান্টি-সাইবারক্রাইম ডিরেক্টরেট। এই সংস্থাটি অ্যান্টি-করাপশন, ইকোনমিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক সিকিউরিটি জেনারেল ডিরেক্টরেটের অধীনে কাজ করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও এবং পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা হামলার ভিডিও শেয়ার করে ইরানের হামলাকে ‘সফল’ এবং ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে প্রচার করেছিলেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
আরও দেখুনঃ গ্যাসের ছ্যাঁকায় পুড়ছে পকেট! রান্নার বিকল্প খুঁজতে কলকাতায় হু হু করে বিকোচ্ছে ইন্ডাকশন কুকার
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পাকিস্তানি নাগরিক আফজাল খান, মোহাম্মদ মোয়াজ আকবর, আহমেদ মুমতাজ, আরসলান আলি সাজ্জাদ এবং আব্দুল রহমান আব্দুল সাত্তার। এছাড়া একজন বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ ইসরাফিল মিরকেও আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, তারা সবাই বাহরাইনে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিক বা বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।
বাহরাইন সরকার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের প্রচার বা ভুয়ো তথ্য ছড়ানোকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
এই গ্রেফতার অভিযানের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান গাল্ফ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাহরাইনও সেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতর থাকার কারণে কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।
সম্প্রতি ইরানের হামলায় বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং মুহাররাক এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার ফলে ২৯ বছর বয়সী এক বাহরাইনি নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হামলার ফলে একটি তেল শোধনাগারেও আগুন লাগে, যা দেশের অর্থনীতির উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
বাহরাইন সরকারের দাবি, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ১০০টিরও বেশি মিসাইল এবং ১৭১টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব বা উস্কানিমূলক পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এমন পোস্ট সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং শত্রুপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দিতে পারে। তাই এই ধরনের কার্যকলাপকে ‘দেশদ্রোহমূলক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

