শেয়ার বাজারে নামল ধ্বস! কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি

indian-stock-market-crash-sensex-nifty-march-2-2026

নয়াদিল্লি: আজ, ২ মার্চ সোমবার সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার (stock market crash)। দিনের শুরুতেই বাজারে তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি হয় এবং তার জেরে সেনসেক্স ও নিফটি দু’টিই বড়সড় পতনের মুখে পড়ে। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স প্রায় ২,৭৪৩ পয়েন্ট বা প্রায় ৩.৩৭ শতাংশ নেমে গিয়ে ৭৮,৫৪৩-এ পৌঁছায়। একই সময়ে নিফটি ৫০ সূচকও ৫৩৩ পয়েন্ট বা প্রায় ২.১১ শতাংশ কমে ২৪,৬৪৫-এর আশেপাশে নেমে আসে।

যদিও লেনদেনের শেষ ভাগে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তবুও দিনের সামগ্রিক চিত্র ছিল বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। বাজারের এই ধসের ফলে বিনিয়োগকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের মূল কারণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও।

   

আরও দেখুন: শাহের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে সাংবাদিক সন্তু

যুদ্ধের আশঙ্কার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রাও আজ বড় চাপের মুখে পড়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম কমে গিয়ে ৯১.৫০-এর নিচে নেমে গেছে। এই পতন আমদানি খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা এফআইআই। গত সেশনে তারা প্রায় ৭,৫৩৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বড় পরিমাণে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন, তখন বাজারে স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হয় এবং সূচক দ্রুত নিচে নামতে থাকে। অন্যদিকে বাজারের ভয়ের সূচক হিসেবে পরিচিত ইন্ডিয়া ভিআইএক্স বা India VIX আজ প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সূচকের বৃদ্ধি সাধারণত বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা আগামী দিনগুলোতে আরও বড় ওঠানামার আশঙ্কা করছেন।