
পটনা: জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) এক দীর্ঘস্থায়ী নকল ভারতীয় মুদ্রা (Noor Mohammad) চক্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। নেপালের বারা জেলার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদকে রবিবার বিহারের সমস্তিপুর জেলার শাহপুর পটরি এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে পলাতক এই ব্যক্তি দুবাই-ভিত্তিক এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় নকল টাকার র্যাকেটে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে। নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল দুবাই থেকে আনা ৪,৯৮৮টি উচ্চমানের নকল ১০০০ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। এর মোট মূল্য ছিল ৪৯.৮৮ লক্ষ টাকা। এই নোটগুলো এতটাই নিখুঁত ছিল যে সাধারণ চোখে ধরা পড়া কঠিন। এনআইএ জুন ২০১৪-এ এই ঘটনায় মামলা রুজু করে (আরসি-০২/২০১৪/এনআইএ/ডিএলআই), যাতে আইপিসি এবং ইউএ(পি) অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়।
আরও দেখুনঃ বঙ্গে বিজেপির মেগা শো! রায়দিঘিতে শাহ, চার প্রান্তে শুরু ‘যাত্রা’
তদন্তে দেখা যায়, এই নকল টাকা দুবাই হয়ে ভারতে ঢোকানো হয়েছে এবং এর পেছনে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে।নুর মোহাম্মদ এই চক্রের এক মূল সদস্য ছিলেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনি সহ-অভিযুক্ত একরামুল আনসারি এবং দুবাই-ভিত্তিক পাকিস্তানি নাগরিক সৈয়দ মোহাম্মদ শফি ওরফে শফি চাচার সঙ্গে মিলে নকল টাকা সংগ্রহ, পরিবহন, সরবরাহ এবং প্রচারের ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে পটিয়ালা হাউস কোর্টে এনআইএ চার্জশিট দাখিল করে, কিন্তু নুর মোহাম্মদ ততদিনে পলাতক হয়ে যান।
তার বিরুদ্ধে নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট জারি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন, কিন্তু এনআইএ-র নিরন্তর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতায় অবশেষে তাকে ধরা সম্ভব হয়।এই মামলা ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হয়। নকল টাকা শুধু অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থ জোগানোর সম্ভাবনাও থাকে।
দুবাইকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান থেকে এ ধরনের উচ্চমানের নকল নোট ভারতে ঢোকানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নেপালের সীমান্তপথও এসব চক্রের জন্য সুবিধাজনক রুট হয়ে উঠেছে। নুর মোহাম্মদের গ্রেফতার এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্যদের খোঁজ পাওয়ার দ্বার খুলে দিতে পারে। এনআইএ জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা ভারত-নেপাল সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে। নেপালের নাগরিক হওয়ায় তার পলায়ন ও আত্মগোপন সহজ হয়েছিল, কিন্তু এনআইএ-র সমন্বিত অভিযানে তা ভেঙে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে নকল টাকার চক্র ধরা পড়ছে, যা দেখিয়ে দিচ্ছে যে এই সমস্যা এখনও অব্যাহত। সরকারের পক্ষ থেকে নোট বাতিল, নতুন নোট চালু এবং ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, সীমান্তপারের এই হুমকি পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি।

