‘ছুটি বাধ্যতামূলক হলে নারীদের চাকরি দেবে না কেউ!” মেন্সট্রুয়াল লিভ নিয়ে সুপ্রিম ইঙ্গিত

নয়াদিল্লি: কাজের জায়গায় নারীদের জন্য ‘মেন্সট্রুয়াল লিভ’ বা ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার আবেদনটি খারিজ করার ইঙ্গিত দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানাল, এই ধরনের আইন নারীদের কর্মসংস্থানের…

Menstrual Leave Supreme Court India

নয়াদিল্লি: কাজের জায়গায় নারীদের জন্য ‘মেন্সট্রুয়াল লিভ’ বা ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার আবেদনটি খারিজ করার ইঙ্গিত দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানাল, এই ধরনের আইন নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুক্রবার এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন, “আইন করে এই ছুটি বাধ্যতামূলক করলে নিয়োগকর্তারা নারীদের কাজে নিতে আগ্রহ হারাবেন।”

আদালতের পর্যবেক্ষণ

আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “সচেতনতা তৈরি এবং সংবেদনশীলতা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আপনি যখনই এটিকে আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করবেন, তখন নিয়োগকর্তারা নারীদের নিয়োগ দেওয়া কমিয়ে দেবেন। নিয়োগকর্তাদের মানসিকতা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা নেই।”

   

আদালতের মতে, এই ধরনের আইন নারীদের কর্মক্ষেত্রে ‘হীনম্মন্যতা’ তৈরি করতে পারে। প্রধান বিচারপতির কথায়, “এটি উল্টো নারীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করবে। নিয়োগকর্তারা মনে করবেন যে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ‘কম দক্ষ’। তারা বলতে পারেন, আপনার বাড়িতে থাকাই ভালো।”

স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ বনাম বাধ্যতামূলক আইন Menstrual Leave Supreme Court India

আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র অ্যাডভোকেট এমআর শামশাদ উল্লেখ করেন যে, ২০১৩ সালে কেরালা সরকার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম চালু করেছিল। তবে প্রধান বিচারপতি পাল্টা যুক্তি দেন যে, কেরালা সরকারের ওই পদক্ষেপটি ছিল ‘স্বেচ্ছাসেবী’ (Voluntary)। তিনি বলেন, “যখনই কোনো বিষয় আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা হয়, তখন নিয়োগকর্তারা নারীদের চাকরি দিতে অনীহা দেখাবেন।”

স্বাস্থ্যের অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধিকে মেয়েদের ‘জীবনধারণ, মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার’-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়েছিল, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মেয়েদের স্বাস্থ্যের অধিকার রক্ষা করা সরকারের ইতিবাচক দায়িত্ব।

ওই রায়ে আদালত সব রাজ্য সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করতে হবে। স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে পৃথক ও কার্যকরী শৌচাগার নিশ্চিত করা। ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, ছুটির আইন বাধ্যতামূলক না করে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সচেতনতার ওপর জোর দেওয়াই বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হতে পারে।