
কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ১২তম দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নিল। এবার সরাসরি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের ব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরানের সামরিক বাহিনী। বুধবার রাতে তেহরানের একটি ব্যাঙ্কে হওয়া ভয়াবহ হামলার পরেই পালটা এই চরম বার্তা দিল ইরান।
কেন এই পালটা হুঁশিয়ারি?
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’-র একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “শত্রুরাই আমাদের আমেরিকা এবং জায়নবাদী শাসনযন্ত্রের (ইজরায়েল) অন্তর্গত ব্যাঙ্ক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার ছাড়পত্র দিয়েছে।”
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সাধারণ মানুষকে ব্যাঙ্কের ধারেকাছে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।জানা গিয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাঙ্কে মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর পরেই ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে টার্গেট করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ইরান।
টার্গেটে গুগল, মাইক্রোসফটের মতো টেক-জায়ান্টরা! Iran threatens US tech companies
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানের ‘হিট লিস্টে’ এবার উঠে এসেছে বিশ্বখ্যাত সব মার্কিন টেক-জায়ান্টদের নাম। ইরানের আইআরজিসি অনুমোদিত সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এই মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে ইজরায়েলের গভীর যোগসূত্র রয়েছে এবং এদের প্রযুক্তি সামরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
হিট লিস্টে থাকা নামগুলি হল- গুগল (Google), মাইক্রোসফট (Microsoft), আইবিএম (IBM), এনভিডিয়া (Nvidia), প্যালানটির (Palantir) এবং ওরাকল (Oracle)।
ইজরায়েল এবং বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে থাকা এই সংস্থাগুলির অফিস এবং ক্লাউড-সার্ভিস পরিকাঠামোকে “ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু” বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সংঘাত এখন ক্রমশ একটি “পরিকাঠামোগত যুদ্ধে” পরিণত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
ছড়াচ্ছে যুদ্ধের আঁচ, তেলের বাজারেও চরম আতঙ্ক
বুধবার সকালেও ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে পালটা আক্রমণ চলেছে। গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে৷ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি ইরানি ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। ওমানের কাছে হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা হয়েছে, যার জেরে নাবিকরা জাহাজ ছাড়তে বাধ্য হন। কুয়েত আটটি এবং সৌদি আরব তাদের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা পাঁচটি ইরানি ড্রোনকে মাঝপথেই ধ্বংস করার দাবি করেছে।
পারস্য উপসাগরের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে কার্গো বা পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় আরব দেশগুলির তেলক্ষেত্র এবং শোধনাগারগুলিকেও ক্রমাগত টার্গেট করছে তেহরান।

