
সৌদি আরব পাকিস্তানের প্রতি সব ধরনের সাহায্য এবং বিনিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে (Saudi Arabia)। রিয়াদের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, “পাকিস্তানের কোনো আর্থিক পরিকল্পনা নেই যা তারা প্রতিশ্রুতি অনুসারে কার্যকর করতে পারে। আমাদের টাকা আসে করদাতাদের কাছ থেকে। আর কোনো ফ্রিলোডারকে সহ্য করা হবে না।” এই ঘোষণা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে “কিন্তু সৌদি ভাইজান, আমাদের তো প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে!”গত কয়েক মাস ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যাতে বলা হয়েছে যে এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে অন্য দেশ তা নিজের ওপর আক্রমণ বলে মনে করবে।
আরও দেখুনঃ চলন্ত ট্রেনেই প্রসব! রেল পুলিশের তৎপরতায় হাসপাতালে ভর্তি মা ও সদ্যোজাত
এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মোড় এনেছে, এমনকি তুরস্ককেও এতে যোগ দেওয়ার আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি এবং সৌদির অর্থনৈতিক শক্তি মিলে একটা শক্তিশালী জোট গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারে উল্টো। সৌদি আরব এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা আর পাকিস্তানকে ‘ফ্রি’ সাহায্য বা সুদ-মুক্ত ঋণ দিতে রাজি নয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুসারে, পাকিস্তান বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা অর্থনৈতিক সংস্কার করবে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে, কিন্তু কোনোটাই কার্যকর হয়নি। “আমাদের টাকা করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থ। আমরা আর কোনো দেশকে ফ্রিলোডার হিসেবে দেখতে চাই না,” বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের জন্য সৌদি থেকে আসা তেল সরবরাহে ছাড়, বিনিয়োগ প্রকল্প এবং জরুরি সাহায্য সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি নেটিজেনরা বলছেন, “আমরা সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছি, এখন তারা অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করে দিলে কীভাবে চলবে?”এই ঘটনা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। দেশটি ইতিমধ্যেই আইএমএফ-এর কঠোর শর্তের মুখোমুখি, মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কম।
সৌদি আরব ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় দাতা। গত কয়েক বছরে তারা বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রেডিট, ঋণ এবং বিনিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০-এর অধীনে দেশটি নিজের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে, বিদেশি সাহায্যের পরিবর্তে বিনিয়োগ-ভিত্তিক সম্পর্ক গড়তে চাইছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তারা এখন বলছে, “এখন থেকে ট্রেড এবং ইনভেস্টমেন্ট, সাহায্য নয়।”
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনেকে মনে করছেন যে এটা একটা চাপের কৌশল। সৌদি চাইছে পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংস্কার করে, কর্পোরেট ট্যাক্স বাড়ায়, রপ্তানি বাড়ায় এবং ঋণের বোঝা কমায়। কিন্তু প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উঠলে পাকিস্তানিরা বলছেন, “আমরা তো সৌদির নিরাপত্তায় সেনা পাঠিয়েছি, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন অর্থ বন্ধ করে দিলে কীভাবে চলবে?” সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় পাকিস্তান সৌদির পক্ষে দাঁড়িয়েছে, এমনকি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে।

