রাজ্যসভায় পা রাখার সম্ভবনা মুখ্যমন্ত্রীর! গদিতে কে শুরু জল্পনা

nitish-kumar-rajya-sabha-bihar-cm-speculation
Bihar CM Nitish Kumar Set to Resign, Speculation Rises Over Successor

পটনা: বিহারের রাজনীতিতে একবারে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত। (Nitish Kumar)সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি এই খবর সত্যি হয়, তাহলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপির কোনো নেতার আসার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এই গুঞ্জন শুধু রাজনৈতিক মহলে নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে নীতীশ কুমার বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি নিজের দল জেডিইউ-কে নিয়ে একাধিকবার জোট বদল করেছেন, মহাগঠবন্ধন থেকে এনডিএ-তে ফিরে এসেছেন, আবারও সরকার গড়েছেন। সম্প্রতি তিনি দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, যা বিহারের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে এই বয়সে, এত অভিজ্ঞতার পর কি তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে যেতে চাইছেন?

   

আরও দেখুনঃ ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের ছবি প্রকাশ করল প্রতিরক্ষা দফতর

রাজ্যসভায় যাওয়া মানে আরও একটা দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা, কিন্তু সেখানে তিনি বিহারের দৈনন্দিন সমস্যা থেকে কিছুটা দূরে থাকবেন। অনেকে মনে করছেন, এটা হয়তো তাঁর রাজনৈতিক অবসরের একটা পরিকল্পিত পথ। এই খবরের সঙ্গে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে আছে নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের রাজনীতিতে প্রবেশ। সূত্রের খবর, নিশান্তকে জেডিইউ রাজ্যসভার প্রার্থী করতে পারে।

নীতীশ নিজে দীর্ঘদিন ধরে বংশবাদের বিরোধিতা করে এসেছেন, কিন্তু এখন নিজের ছেলেকে রাজনীতিতে ঢোকানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পরিকল্পনা, এমনটাও মনে করছেন অনেকেই। অনেক জেডিইউ নেতা সি সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, বলছেন যে নিশান্তকে এখনই মানুষের মাঝে কাজ করতে হবে। তবে এতে দলের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নীতীশ যদি রাজ্যসভায় চলে যান, তাহলে নিশান্তকে সামনে রেখে দলকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে এই খবর যদি সত্যি হয় তবে বিজেপির জন্য বিহারে আচ্ছে দিন । বিহারে এনডিএ-র মধ্যে জেডিইউ-বিজেপি জোট চলছে, কিন্তু নীতীশের অনিশ্চয়তা সবসময় থাকে। যদি তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেন, তাহলে বিজেপি নিজের কোনো নেতাকে হয়তো সম্রাট চৌধুরী বা অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি তুলতে পারে। বিহার বিধানসভায় এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই সরকার বদলের সম্ভাবনা কম নয়। তবে এতে জেডিইউ-র ভোটব্যাঙ্কে কী প্রভাব পড়বে, সেটা দেখার বিষয়। কুর্মি সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে নীতীশের জনপ্রিয়তা এখনও অনেক, কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের রাশ হারাবে এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

বিরোধী শিবিরে এই খবর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তেজস্বী যাদবের আরজেডি এই সিদ্ধান্তকে নীতীশের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, নীতীশ আর বিহারের মাটিতে থাকতে চান না, কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। কংগ্রেসও এই সুযোগে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, বিহারের রাজনীতি এতটাই জটিল যে কোনো কিছুই একদম নিশ্চিত করে বলা যায় না। নীতীশ কুমারের মতো অভিজ্ঞ নেতা হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেন না সবকিছু হিসেব করে নেন।