মুসলিম তোষণের অভিযোগ তুলে কংগ্রেস ছাড়লেন সংখ্যালঘু নেতা

কেরালায় কংগ্রেসের প্রবল জনসমর্থনপুষ্ট নেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বেনি পেরুভান্থানম শুক্রবার দলত্যাগের ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এই খ্রিস্টান নেতা মুসলিম তোষণের…

Christian Leader Benny Behanan Quits Congress

কেরালায় কংগ্রেসের প্রবল জনসমর্থনপুষ্ট নেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বেনি পেরুভান্থানম শুক্রবার দলত্যাগের ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এই খ্রিস্টান নেতা মুসলিম তোষণের অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ বছর ধরে কংগ্রেস খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অবহেলা করে শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের তোষণ করে চলেছে।”

   

ওয়াকফ বিল ঘিরেই বিতর্ক (Wakf Bill controversy)

বেনি পেরুভান্থানমের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে সাম্প্রতিক ওয়াকফ বিল, যেটিকে তিনি “একপাক্ষিক ও সম্প্রদায়-বিশেষকে উপকৃত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত” বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এই বিল কেরালার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভারসাম্যকে নষ্ট করছে। বেনির অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই এই বিলকে সমর্থন করেছে এবং এতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর অবজ্ঞা স্পষ্ট হয়েছে।

Advertisements

“একচোখা নীতি কংগ্রেসের” — বেনির তীব্র সমালোচনা

সংবাদ সম্মেলনে বেনি বলেন, “আমরা এতদিন ভেবেছিলাম, কংগ্রেস একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তারা শুধুমাত্র এক সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখার জন্য খ্রিস্টানদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি একজন গর্বিত খ্রিস্টান ও কেরালাবাসী। আমার দায়িত্ব হল আমার সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করা — সেটা কংগ্রেস আর করতে পারছে না।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে নাড়া

বেনির এই সিদ্ধান্তে কেরালার রাজনীতিতে একপ্রকার হইচই পড়ে গেছে। তিনি শুধুমাত্র একজন প্রভাবশালী খ্রিস্টান নেতা নন, বরং দক্ষিণ কেরালায় তাঁর বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছিল কংগ্রেসের তরফ থেকে। তাঁর এই দলত্যাগ কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য আসেনি, তবে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেনির বক্তব্যকে ‘দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, “কংগ্রেস সব সময়ই সাম্যের রাজনীতি করেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আমাদের অঙ্গীকার সব সম্প্রদায়ের প্রতিই সমানভাবে প্রযোজ্য।”

আগামী পদক্ষেপ কী?

বেনি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে — তিনি কি বিজেপিতে যোগ দেবেন? না কি নতুন কোনও খ্রিস্টানভিত্তিক রাজনৈতিক মঞ্চ গড়বেন? সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বেনি বলেন, “আমি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি, তবে খুব শিগগিরই আমার পথ ঘোষণা করব। এটা নিশ্চিত, আমি আর কংগ্রেসে ফিরছি না।”

সংখ্যালঘু রাজনীতিতে নতুন মাত্রা

বেনি পেরুভান্থানমের দলত্যাগ কেবল কংগ্রেসের সংকট নয়, বরং কেরালার সংখ্যালঘু রাজনীতিতেও এক নতুন মাত্রা এনে দিল। খ্রিস্টান ও মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভারসাম্য এখন প্রশ্নের মুখে। একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনার জেরে কেরালার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় রদবদল হতে পারে আগামী দিনে।