Prime Minister Seeks Buddha’s Blessings at Wat Pho Temple in Bangkok
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে (bangkok) বিখ্যাত ওয়াট ফো মন্দির পরিদর্শন করেছেন। এই মন্দির তার অসাধারণ স্থাপত্য এবং ৪৬ মিটার দীর্ঘ শুয়ে থাকা বুদ্ধের বিশাল মূর্তির জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার সঙ্গে মোদী এই মন্দিরে শুয়ে থাকা বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সিনিয়র বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কাছে ‘সংঘদান’ প্রদান করেন।
এছাড়াও, তিনি শুয়ে থাকা বুদ্ধের মন্দিরে অশোকের সিংহ মূর্তির একটি প্রতিরূপ উপহার দেন এবং ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ও প্রাণবন্ত সভ্যতার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক্স-এ একটি পোস্টে এই সফরের ছবি সহ জানিয়েছে, “একটি প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক! প্রধানমন্ত্রী
ওয়াট ফো র ইতিহাস (bangkok)
থাইল্যান্ডের (bankok) প্রধানমন্ত্রী -এর সঙ্গে ওয়াট ফ্রা চেতুফোন বিমনমঙ্গলারাম রাজওয়ারমহাবিহান- ওয়াট ফো-তে শুয়ে থাকা বুদ্ধের ঐতিহাসিক মন্দির পরিদর্শন করেছেন এবং ঐশ্বরিক আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।” ওয়াট ফো, যার পুরো নাম ওয়াট ফ্রা চেতুফোন বিমন মঙ্গলারাম রাজওয়ারমহাবিহান, থাইল্যান্ডে বুদ্ধ মূর্তির সবচেয়ে বড় সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত এবং এটি দেশের প্রাচীনতম জনশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ওয়াট ফো মন্দিরটি ১৬শ শতাব্দীতে একটি মঠ হিসেবে নির্মিত হয়েছিল।
১৭৮৮ সালে রাজা রামা প্রথম ব্যাঙ্কককে থাইল্যান্ডের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পর এটির পুনরুদ্ধার করেন। আজকের মন্দিরটি রাজা রামা তৃতীয়ের শাসনকালে সম্পন্ন হয়। ১৮৩২ সালে তিনি ওয়াট ফো-এর বড় আকারে সম্প্রসারণ করেন, বিশেষ করে দক্ষিণ বিহার এবং পশ্চিম বিহার, যেখানে শুয়ে থাকা বুদ্ধের মূর্তি অবস্থিত। শুয়ে থাকা বুদ্ধের এই মূর্তিটি ১৮৪৮ সালে সম্পন্ন হয় এবং এটি ব্যাঙ্ককের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি হিসেবে স্বীকৃত।
মেদিনীপুরে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে চাকরিহারা শিক্ষকদের বিক্ষোভ
সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনকে আরও জোরদার করেছে
মোদীর এই সফর ভারত ও থাইল্যান্ডের (bangkok) মধ্যে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনকে আরও জোরদার করেছে। শুয়ে থাকা বুদ্ধের মূর্তি, যা ৪৬ মিটার দীর্ঘ এবং সোনালি রঙে আচ্ছাদিত, বৌদ্ধ ধর্মের শান্তি ও মুক্তির প্রতীক। মোদী এই মন্দিরে পৌঁছে প্রথমে বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তারপর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি অশোকের সিংহ মূর্তির প্রতিরূপ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ভারতের প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সম্পর্ককে স্মরণ করেন।
অশোকের সিংহ মূর্তি ভারতের শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তার প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার সঙ্গে এই সফরে মোদী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের মাধ্যমে যে গভীর সংযোগ রয়েছে, তা এই সফরে আরও স্পষ্ট হয়েছে। থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ধর্ম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং ভারত বৌদ্ধ ধর্মের জন্মস্থান হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ বন্ধন রয়েছে।
থাই সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ
ওয়াট ফো মন্দিরটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি থাই সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মন্দিরে থাই ঐতিহ্যবাহী ম্যাসেজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। মন্দিরের চারপাশে ৯১টি ছোট স্তূপ এবং চারটি বড় হল রয়েছে, যা এর স্থাপত্যের মহিমাকে বাড়িয়ে তোলে। শুয়ে থাকা বুদ্ধের পায়ের তলায় ১০৮টি শুভ চিহ্ন খোদাই করা আছে, যা বৌদ্ধ দর্শনের গভীরতাকে প্রকাশ করে।
মোদীর এই সফরে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির প্রতিফলন দেখা গেছে।
থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মোদী এর আগেও বিভিন্ন দেশে বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করেছেন, যা ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির একটি অংশ।
সামাজিক মাধ্যমে এই সফর নিয়ে উৎসাহ
সামাজিক মাধ্যমে এই সফর নিয়ে উৎসাহ দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মোদীজি ওয়াট ফো পরিদর্শন করে ভারত-থাইল্যান্ডের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করলেন।” আরেকজন লিখেছেন, “শুয়ে থাকা বুদ্ধের মন্দিরে অশোকের সিংহ মূর্তি উপহার দেওয়া আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি গর্বের বিষয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক নয়, এটি কৌশলগত গুরুত্বও বহন করে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “মোদীর এই সফর থাইল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বৌদ্ধ ধর্ম এখানে একটি সেতু হিসেবে কাজ করছে।”
মোদীর এই পরিদর্শন থাইল্যান্ডে ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। ওয়াট ফো-তে তাঁর উপস্থিতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে এই সফরের ফলাফল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তা দেখার বিষয়।