মুঘল যুগের বিখ্যাত সমাধিসৌধ তাজমহল (taj mahal) গত পাঁচ বছরে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (ASI) দ্বারা সুরক্ষিত স্মৃতিসৌধগুলির মধ্যে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই তথ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানিয়েছেন
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, গত পাঁচ বছরে এএসআই বিভিন্ন স্মৃতিসৌধে প্রবেশ টিকিট বিক্রি থেকে কত টাকা আয় করেছে, বছর অনুযায়ী এবং স্মৃতিসৌধ অনুযায়ী; এবং গত পাঁচ বছরে কোন স্মৃতিসৌধগুলি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ আয় করেছে।
মন্ত্রী তাঁর উত্তরে আর্থিক বছর ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য একটি সারণী আকারে উপস্থাপন করেছেন। এই তথ্য অনুসারে, তাজমহল প্রতিটি বছরে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। এই মুঘল স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শনটি সম্রাট শাহজাহান ১৭শ শতাব্দীতে নির্মাণ করিয়েছিলেন এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপত্যগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাজমহলের এই অবিচ্ছিন্ন জনপ্রিয়তা এবং আর্থিক অবদান ভারতের পর্যটন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’, উপকৃত হবেন প্রান্তিকরা ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হতেই বললেন নমো
তথ্য অনুযায়ী
তথ্য অনুযায়ী, তাজমহল (taj mahal) গত পাঁচ বছরে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আর্থিক বছর ২০১৯-২০-তে তাজমহলের পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল আগ্রা ফোর্ট এবং দিল্লির কুতুব মিনার। এই তিনটি স্মৃতিসৌধই পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এএসআই-এর আয়ের একটি বড় অংশের জন্য দায়ী। তবে, তাজমহলের আয় অন্যান্য স্মৃতিসৌধের তুলনায় অনেক বেশি। এটি শুধুমাত্র ভারতীয় পর্যটকদের নয়, বিদেশি পর্যটকদের কাছেও একটি প্রধান আকর্ষণ।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, তাজমহলের (taj mahal) টিকিট বিক্রির আয় গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ভারতের পর্যটন ক্ষেত্রে এই স্মৃতিসৌধের গুরুত্বকে তুলে ধরে। তিনি বলেন, “তাজমহল শুধু একটি স্মৃতিসৌধ নয়, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আয় স্মৃতিসৌধগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
তাজমহলের (taj mahal) জনপ্রিয়তার পিছনে এর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত গুরুত্ব
তাজমহলের জনপ্রিয়তার পিছনে এর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত গুরুত্ব একটি বড় কারণ। সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মুমতাজ মহলের স্মৃতিতে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৬৩১ সালে শুরু হওয়া এই নির্মাণকাজ ১৬৪৮ সালে সম্পন্ন হয়। সাদা মার্বেলে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধটি তার সুন্দর নকশা এবং প্রতিসাম্যের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তাজমহলের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ
তবে, তাজমহলের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সময়ে সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে আগ্রায় ভারী বৃষ্টির কারণে তাজমহলের প্রধান সমাধিসৌধের ছাদ থেকে কয়েকটি জলের ফোঁটা পড়তে দেখা গিয়েছিল। এই ঘটনার পর এএসআই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জয়েন্টগুলি সিল করে দেয়। মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, এই ধরনের সমস্যা এড়াতে নিয়মিত পরিদর্শন এবং সংরক্ষণ কাজ চলছে।
রাজনৈতিক মহলে এই তথ্য নিয়ে আলোচনা
রাজনৈতিক মহলেও এই তথ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে যে, তাজমহলের আয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও এর সংরক্ষণে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একজন বিরোধী নেতা বলেন, “তাজমহল থেকে এত আয় হচ্ছে, কিন্তু এর রক্ষণাবেক্ষণে কতটা ব্যয় করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। সরকারের উচিত এই বিষয়ে স্বচ্ছতা আনা।” অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তাজমহল সহ সব এএসআই-সুরক্ষিত স্মৃতিসৌধের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমেও এই খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “তাজমহল আমাদের গর্ব। এটি শুধু একটি স্মৃতিসৌধ নয়, ভারতের পরিচয়।” আরেকজন লিখেছেন, “এই আয় দিয়ে তাজমহলের সৌন্দর্য আরও বাড়ানো উচিত।”
বিশ্লেষকদের মতে, তাজমহলের এই আয় ভারতের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “তাজমহলের জনপ্রিয়তা ভারতকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে শীর্ষে রাখে।
এটি অন্যান্য স্মৃতিসৌধের প্রচারেও সাহায্য করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “সরকারের উচিত এই আয়ের একটি অংশ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা।” তাজমহলের এই সাফল্য ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে। আগামী দিনে এই স্মৃতিসৌধটি আরও বেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।