নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হওয়াকে একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে। এই বিলটি দীর্ঘ দুই দিনের বিতর্কের পর উভয় কক্ষে পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইট করে বলেন, ‘‘ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলটি সংসদে পাস হওয়া আমাদের সামাজিক ন্যায়, স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বিশেষভাবে তাদের সাহায্য করবে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক অবস্থায় ছিল এবং যারা কণ্ঠস্বর বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।” (PM Modi on Wakf Amendment Bill)
এটি বিজেপির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বিতীয় বড় সংস্কার, যা ২০১৯ সালে ত্রৈলোকিক তালাককে অবৈধ ঘোষণা করার পর আনা হয়েছে।
পাসমান্ডা মুসলিমদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি PM Modi on Wakf Amendment Bill
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিলের পেছনে যে লক্ষ্য রয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল, যা দরিদ্র মুসলিম, মুসলিম মহিলাদের এবং বিশেষভাবে পাসমান্ডা মুসলিমদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, “ওয়াকফ ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে স্বচ্ছতার অভাবে ছিল, যা বিশেষভাবে দরিদ্র মুসলিমদের এবং মুসলিম মহিলাদের স্বার্থে ক্ষতিকর ছিল। নতুন এই আইন স্বচ্ছতা আনবে এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করবে।”
পাসমান্ডা মুসলিমরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এবং সামাজিকভাবে নিপীড়িত গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। এই সম্প্রদায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী।
একটি সামাজিক ন্যায়বোধপূর্ণ আইন PM Modi on Wakf Amendment Bill
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “এই বিলটি এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য অপেক্ষমাণ। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা করবে, যা আরও আধুনিক এবং সামাজিক ন্যায়বোধে সহানুভূতিশীল হবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা রক্ষায়।”
ওয়াকফ কাউন্সিলের ক্ষেত্রে পরিবর্তন PM Modi on Wakf Amendment Bill
বিল অনুযায়ী, এখন থেকে ওয়াকফ কাউন্সিলে সর্বাধিক চারজন অ-মুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন, এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুটি নারী সদস্য থাকতে হবে। এছাড়াও, জেলা কালেক্টরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, একটি সম্পত্তি ওয়াকফ কিনা তা নির্ধারণে।
এই বিলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদক্ষেপ হতে চলেছে, যা তাদের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে আরও সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।