জামশেদপুর-মোহনবাগান ম্যাচে কোন তিন লড়াই বদলে দিতে পারে খেলা?

ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ২০২৪-২৫-এর (ISL 2024-25) সেমিফাইনালে মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্টকে দুই লেগে পরাজিত করতে হবে জামশেদপুর এফসি’র (Jamshedpur FC)। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্লে-অফে…

Jamshedpur FC vs Mohun Bagan

ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ২০২৪-২৫-এর (ISL 2024-25) সেমিফাইনালে মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্টকে দুই লেগে পরাজিত করতে হবে জামশেদপুর এফসি’র (Jamshedpur FC)। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্লে-অফে রোমাঞ্চকর জয়ের পর এবার ‘মেন অফ স্টিল’-এর সামনে বর্তমান লিগ শিল্ড চ্যাম্পিয়নদের হারানোর বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথম লেগের এই ম্যাচটি জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আজ, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচে দুই দলের বিপরীতমুখী খেলার ধরনের কারণে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত, এবং কিছু নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সই এই লড়াইয়ের ফলাফল নির্ধারণ করবে।

এই মরসুমে জামশেদপুরের মাটিতে মোহনবাগানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মেরিনার্সরা এবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় লেগের আগে একটি ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে ফিরতে চাইবে। অন্যদিকে, জামশেদপুর তাদের সমর্থকদের উৎসাহের ওপর ভর করে একটি দাপুটে জয় তুলে দ্বিতীয় লেগের জন্য শক্ত অবস্থান তৈরি করতে মরিয়া। দুই দলেরই গুণী খেলোয়াড় রয়েছে, যার ফলে মাঠে কিছু আকর্ষণীয় দ্বৈরথ দেখা যাবে। এই প্রতিবেদনে আমরা প্রথম লেগের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই নিয়ে আলোচনা করছি, যা ম্যাচের ফলাফল ও দলের আধিপত্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

   

৩. লিস্টন কোলাকো বনাম আশুতোষ মেহতা

মোহনবাগানের উইঙ্গার লিস্টন কোলাকো মার্চ ২০২৫-এর আন্তর্জাতিক বিরতিতে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ড্র ম্যাচে তিনি তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন এবং দলের সেরা আক্রমণকারী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। এই মরসুমে আইএসএল-এ তার পাঁচটি গোল অবদান (তিনটি গোল, দুটি অ্যাসিস্ট) রয়েছে। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কোলাকো মোহনবাগানের আইএসএল শিরোপা জয়ের অভিযানে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।

Advertisements

তবে, তার সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবেন জামশেদপুরের অভিজ্ঞ ফুলব্যাক আশুতোষ মেহতা। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে জয়ে মেহতা তার দারুণ খেলা-পড়ার ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষার গুণ দেখিয়েছেন। তিনি আলেদ্দিন আজারাইয়ের মতো শক্তিশালী আক্রমণকারীকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিলেন। যদিও তিনি একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন, তার গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকলগুলো প্রতিপক্ষকে হতাশ করেছিল। এবার তিনি একই কৌশল প্রয়োগ করে কোলাকোকে থামাতে চাইবেন।

কোলাকোকে তার দ্রুত ড্রিবলিং দিয়ে মেহতাকে পরাস্ত করে ফাইনাল থার্ডে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছতে হবে। অন্যদিকে, আশুতোষ তার উচ্চ শক্তি এবং ক্লাচ ট্যাকল দিয়ে লিস্টনকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবেন। এই দ্বৈরথে জয়ী হওয়া মোহনবাগানের আক্রমণের একটি প্রধান সরবরাহ চ্যানেল বন্ধ করতে পারে।

২. জাভি হার্নান্দেজ বনাম লালেংমাওয়া রালতে

জামশেদপুর এফসি’র সৃজনশীল মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ এই মরসুমে তার বাঁ পায়ের জাদু দিয়ে দলের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে তিনি দুর্দান্ত খেলেছেন এবং একটি সুন্দর গোল করেছেন। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জামশেদপুর সম্ভবত প্রতিরক্ষামূলক কৌশল নেবে, তাই জাভি মিডফিল্ডের গভীরে নেমে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবেন।

তবে, তার সামনে থাকবেন মোহনবাগানের ধারাবাহিক মিডফিল্ডার লালেংমাওয়া রালতে, যিনি ‘আপুইয়া’ নামে পরিচিত। ভারতের শীর্ষ মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে আপুইয়া তার প্রেস-প্রতিরোধী ক্ষমতা, কঠোর পরিশ্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বল পুনরুদ্ধারের দক্ষতার জন্য পরিচিত। এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণের জন্য।

জাভিকে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আপুইয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজতে হবে এবং তার দলের জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে। আপুইয়া তার সময়োচিত ট্যাকল এবং বল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জাভির আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার চেষ্টা করবেন। এই মিডফিল্ডের দ্বৈরথ ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

১. জেমি ম্যাকলারেন বনাম স্টিফেন এজে

মোহনবাগানের ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেন লিগ পর্বের শেষ দিকে দারুণ ফর্মে ছিলেন। শেষ চার ম্যাচে পাঁচটি গোল করে তিনি এই মরসুমে ১১টি গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। সেমিফাইনালে তিনি এই ফর্ম ধরে রেখে গোলের সংখ্যা বাড়াতে চাইবেন। তবে, তার সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবেন জামশেদপুরের ইন-ফর্ম ডিফেন্ডার স্টিফেন এজে।

নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে এজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। এই কঠোর ডিফেন্ডার ফরোয়ার্ডদের হয়রানি করতে পছন্দ করেন এবং তার দলের প্রতিরক্ষাকে শক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ম্যাকলারেনকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবেন।
ম্যাকলারেনকে তার অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট দিয়ে এজের মার্কিং থেকে বেরিয়ে ফাইনাল থার্ডে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছতে হবে। এজে তার শক্তিশালী ট্যাকল এবং দ্বৈরথ জয়ের মাধ্যমে ম্যাকলারেনকে হতাশ করতে চাইবেন। এই দ্বৈরথ মোহনবাগানের আক্রমণ কতটা সফল হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে।

এই তিনটি দ্বৈরথ ছাড়াও জামশেদপুরের গোলরক্ষক আলবিনো গোমেস এবং মোহনবাগানের দিমিত্রি পেত্রাতোসের মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ হবে। জামশেদপুরের কোচ খালিদ জামিল তার দলের প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের ওপর ভরসা করবেন, যেখানে মোহনবাগানের কোচ হোসে মোলিনা তাদের আক্রমণাত্মক শৈলী দিয়ে জয়ের জন্য মরিয়া থাকবেন।

জামশেদপুরের সমর্থকরা ‘দ্য ফার্নেস’-এ তাদের দলকে উৎসাহ দিয়ে মাঠে একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করবে। মোহনবাগান তাদের অপরাজিত অ্যাওয়ে রেকর্ড ধরে রাখতে চাইবে। এই ম্যাচে যে দল এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথগুলোতে জয়ী হবে, তারাই দ্বিতীয় লেগের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। ফুটবলপ্রেমীরা এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।