লোকসভায় অনুরাগ ঠাকুরের ইস্তফা চেয়ে বিস্ফোরক খড়গে

গতকাল, ২ এপ্রিল লোকসভায় (lok sabha) ওয়াকফ সংশোধন বিল ২০২৫ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের একটি বক্তব্য রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে। তিনি কংগ্রেস…

mallikarjun kharge in lok sabha

গতকাল, ২ এপ্রিল লোকসভায় (lok sabha) ওয়াকফ সংশোধন বিল ২০২৫ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের একটি বক্তব্য রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে। তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “আমি কখনও ঝুঁকব না।” এই মন্তব্যের পর আজ, ৩ এপ্রিল, খড়গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “অনুরাগ ঠাকুর তাঁর অভিযোগ প্রমাণ করুন, নইলে ইস্তফা দিন।” এই ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

   

লোকসভায় (lok sabha) উত্তপ্ত পরিস্থিতি

গতকাল রাতে ওয়াকফ সংশোধন বিল ২০২৫ পাসের সময় অনুরাগ ঠাকুর বিলের সমর্থনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। এই সময় তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে খড়গের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নামে রাজনীতি করছেন, কিন্তু আমি কখনও ঝুঁকব না।” এই মন্তব্যের পর কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেণুগোপাল সহ বিরোধী সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। তারা দাবি করেন, এটি ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সংসদের মর্যাদার বিরুদ্ধে। স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এই মন্তব্য স্পঞ্জ করেছি।” তবে, এই ঘটনা বিতর্কের আগুনকে আরও জ্বালিয়ে দেয়।

Advertisements

আরো দেখুন জামশেদপুর-মোহনবাগান ম্যাচে কোন তিন লড়াই বদলে দিতে পারে খেলা?

খড়গের জবাব: ‘প্রমাণ করুন বা ইস্তফা দিন’

আজ সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মল্লিকার্জুন খড়গে অনুরাগ ঠাকুরের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “অনুরাগ ঠাকুর আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি যদি তাঁর কথা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে তাঁর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। আমি এই ধরনের অপমান সহ্য করব না।” খড়গে আরও বলেন, “বিজেপি ওয়াকফ বিলের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে, আর আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘোরাতে চাইছে।”

ওয়াকফ বিলের পটভূমি

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ওয়াকফ সংশোধন বিল ২০২৫, যা গতকাল ২৮৮-২৩২ ভোটে লোকসভায় (lok sabha) পাস হয়। বিলটি ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে আনা হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও, বিরোধীরা এটিকে ‘সংবিধান বিরোধী’ এবং ‘মুসলিম বিরোধী’ বলে সমালোচনা করেছে। বিলের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নদভি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই বিতর্কের মধ্যেই অনুরাগ ঠাকুরের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস নেতারা খড়গের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। কে সি ভেণুগোপাল বলেন, “অনুরাগ ঠাকুরের মন্তব্য সংসদের নিয়মের বিরুদ্ধে। আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি করছি।” অন্যদিকে, বিজেপি সূত্রে বলা হয়েছে, ঠাকুরের বক্তব্য বিলের সমর্থনে ছিল এবং বিরোধীরা এটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে ভুল বোঝাচ্ছে। তবে, সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে খড়গের পক্ষে সমর্থন জানালেও, কেউ কেউ ঠাকুরের অবস্থানকে ‘সাহসী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

জনমত ও সমাজে প্রভাব

এই ঘটনা ওয়াকফ বিলের বিরোধিতাকে আরও জোরালো করেছে। বিরোধী দলগুলি জানিয়েছে, তারা রাজ্যসভায় এই বিলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, “এই বিল শুধু সম্পত্তির বিষয় নয়, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত।” অন্যদিকে, বিজেপি সমর্থকরা বলছেন, “অনুরাগ ঠাকুর সত্যের জন্য লড়ছেন।” এই বিতর্ক দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

আগামীর সম্ভাবনা

খড়গের ইস্তফার দাবির পর এখন সবার নজর অনুরাগ ঠাকুরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কি তাঁর অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ দেবেন, নাকি এটি আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে যাবে? ওয়াকফ বিল নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা আগামী দিনে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সম্পর্ককে আরও তিক্ত করবে।

অনুরাগ ঠাকুরের “আমি কখনও ঝুঁকব না” মন্তব্য এবং খড়গের পাল্টা জবাব ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ওয়াকফ বিলের পাসের পর এই বিতর্ক কেবল সংসদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি জনমানসেও গভীর প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনে এই ঘটনার পরিণতি কী হবে, তা সময়ই বলবে।