ওয়াকফকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের কালোদিন’ বলে কটাক্ষ তৃণমূল নেত্রীর

TMC leader mocks Waqf as ‘the dark days of secular democracy ওয়াকফ (waqf) সংশোধন বিল ২০২৫ গতকাল, ২ এপ্রিল রাতে লোকসভায় পাস হয়েছে। এই বিল…

TMC leader on waqf bil

TMC leader mocks Waqf as ‘the dark days of secular democracy

   

ওয়াকফ (waqf) সংশোধন বিল ২০২৫ গতকাল, ২ এপ্রিল রাতে লোকসভায় পাস হয়েছে। এই বিল নিয়ে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত বিতর্কের পর, ভোটাভুটিতে ২৮৮-২৩২ ভোটে এটি গৃহীত হয়। তবে, এই বিলের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নদভি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মহুয়া মৈত্র এটিকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘কালো দিন’ বলে অভিহিত করেছেন, যখন নদভি বলেছেন, এটি সংবিধানকে উপেক্ষা করে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ আইন’।

Advertisements

লোকসভায় বিল (waqf) পাস: সংখ্যাগরিষ্ঠতার জয়

লোকসভায় এই বিল (waqf) পাসের জন্য সরকারি দল এনডিএ এবং বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ হয়। বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি ভোটে নাকচ হয়ে যায়। মধ্যরাতের পরেও আলোচনা চলার পর, স্পিকার ওম বিড়িয়া ফল ঘোষণা করেন, “সংশোধন সাপেক্ষে, সমর্থনে ২৮৮, বিরোধে ২৩২। প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।” এই বিলটি গত বছর আগস্টে প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল এবং যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত আকারে আনা হয়। বিলটি ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনকে সংশোধন করার লক্ষ্যে এনেছে, যার উদ্দেশ্য ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা।

আরো দেখুন জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে প্রথম লেগের আগে চ্যালেঞ্জ মোলিনার

মহুয়া মৈত্রর প্রতিবাদ: ‘অন্যায্য ও মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে’

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই বিলকে ‘অন্যায্য’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “মাত্র ৫০ ভোটের ব্যবধানে এটি পাস হয়েছে, যা দেখায় যে এই বিল জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে এবং কতটা অজনপ্রিয়। শুধুমাত্র পার্টি হুইপ এবং দুটি মিত্র দলের সমর্থনের কারণে সরকার এটি পাস করতে পেরেছে। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন। এই বিল মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে।” মৈত্র আরও বলেন, এই বিল মুসলিম সম্প্রদায়কে বার্তা দিচ্ছে যে তারা এদেশে সমান নাগরিক নয়।

মহিবুল্লাহ নদভির অভিযোগ: ‘সংবিধানের অবমাননা’

সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নদভি এই বিলকে আরও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এদেশে মুসলিমদের জন্য এর চেয়ে খারাপ আইন আর কখনও তৈরি হয়নি। এটি সংবিধানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পাস করা হয়েছে। এই বিল নিয়ে দেশে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে।” তিনি মনে করেন, এই আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও সমর্থন

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিল ওয়াকফ (waqaf) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে এবং ওয়াকফ বোর্ডের কার্যকারিতা বাড়াবে। এটি পূর্ববর্তী আইনের ত্রুটিগুলি দূর করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। বিলে সম্পত্তি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার উন্নতি, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ওয়াকফ রেকর্ড ডিজিটাইজেশনের মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিজেপি এবং এর মিত্ররা এই বিলের সমর্থনে বলেছেন, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী হবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার রোধ করবে।

বিরোধীদের আশঙ্কা

ইন্ডিয়া ব্লকের সদস্যরা এই বিলকে ‘মুসলিম বিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা মনে করেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে এবং সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে যায়। বিলে অমুসলিমদের ওয়াকফ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে হাইকোর্টে আপিলের সুযোগ দেওয়া এবং ওয়াকফ গঠনের জন্য কঠোর শর্ত আরোপের মতো বিষয়গুলি বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সমাজে প্রভাব
মহুয়া মৈত্র এবং মহিবুল্লাহ নদভির মতো নেতারা মনে করেন, এই বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা ছড়াবে। তারা বলছেন, এটি কেবল ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর আঘাত। বিরোধীরা এটিকে সরকারের ‘বিভাজনকারী রাজনীতি’র অংশ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকরা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির সমাধান করবে।

আগামীর পথ
বিলটি এখন রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য যাবে, যেখানে আরও আট ঘণ্টা বিতর্কের জন্য সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। বিরোধীদের সংখ্যাগত শক্তি রাজ্যসভায় বেশি না হলেও, তারা এটির বিরুদ্ধে জোরালো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই বিল নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা ও প্রতিবাদের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের ওপর নতুন প্রশ্ন তুলছে।