Fraudulent Father Arrested for Attempting to Fake Son’s Death for Insurance
দিল্লির নজফগড় এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। একজন পিতা নিজের জীবিত ছেলের মৃত্যুর একটি নাটক সাজিয়ে ২ কোটি টাকার ইন্স্যুরেন্স (insurance) দাবি করার চেষ্টা করেছেন বলে সোমবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৫ মার্চ, যখন নজফগড় থানায় একটি পিসিআর কলের মাধ্যমে একটি দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায়। পুলিশের মতে, অভিযোগকারী সতীশ কুমার দাবি করেছিলেন যে তার ছেলে গগন একটি বাইক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়েছে এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তাকে প্রাথমিক
চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ঘটনার পিছনে লুকিয়ে ছিল একটি গভীর ষড়যন্ত্র, যা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সতীশ কুমার পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তার ২৭ বছর বয়সী ছেলে গগনকে একটি মোটরবাইক আঘাত করেছে। তিনি দাবি করেন, গগনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যখন তদন্তকারী অফিসার (আইও) গগনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং মেডিকেল পরীক্ষার জন্য অনুরোধ করেন, তখন গগন থানা থেকে বেরিয়ে যায় এবং বলে যে সে পরে ফিরে আসবে। কিন্তু সে আর ফেরেনি।
এই ঘটনার ছয় দিন পর, ১১ মার্চ, সতীশ কুমার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান যে গগন ৬ মার্চ মারা গেছে এবং পরিবার তার দেহ পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাহ করে দিয়েছে। এই বক্তব্য পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়।
আরো দেখুন ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেন KKR অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে!
দ্বারকার ডিসিপি অঙ্কিত সিং জানিয়েছেন
দ্বারকার ডিসিপি অঙ্কিত সিং জানিয়েছেন, “৫ মার্চ আমরা একটি পিসিআর কল পাই, যেখানে একজন ব্যক্তি তার ছেলের বাইক দুর্ঘটনার কথা জানায়। কিন্তু তদন্তে আমরা দেখতে পাই যে কোনো দুর্ঘটনার প্রমাণ নেই। সিসিটিভি ফুটেজে কোনো বাইকের সংঘর্ষের দৃশ্য ধরা পড়েনি। এমনকি স্থানীয় সূত্রও এমন কোনো ঘটনার কথা জানত না।” তিনি আরও বলেন, “যখন আমরা সতীশকে জিজ্ঞাসাবাদ করি, তিনি বলেন যে গগনকে একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং তারপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু কোনো হাসপাতালে তার চিকিৎসার রেকর্ড পাওয়া যায়নি।”
তদন্তের সময় পুলিশ সন্দেহ করে যে এটি একটি সাজানো নাটক। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তারা দেখতে পায় যে গগন একজন বাইক আরোহীর সঙ্গে মিলে এই দুর্ঘটনা সাজিয়েছিল। বাইক আরোহী মনীশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন একজন উকিল, মনমোহন ওরফে প্রদীপ।
মনীশ জানায়, “গগন এবং সতীশ তাদের ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতে এবং ২ কোটি টাকার ইন্স্যুরেন্স দাবি করতে এই পরিকল্পনা করেছিল। আমাকে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।” উকিল পুলিশকে আরও জানান যে গগন জীবিত আছে এবং পাঞ্জাবে লুকিয়ে রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়
পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায় যে সতীশ এবং গগন একটি বিশাল ইন্স্যুরেন্স (insurance) জালিয়াতির পরিকল্পনা করেছিল। তারা একটি জাল মৃত্যু সার্টিফিকেট তৈরি করে এবং গগনের মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে দাবি জানায়। এই পরিকল্পনায় তাদের সহায়তা করেছিলেন মনমোহন, যিনি আইনি দিকগুলো সামলান। পুলিশ গগনকে পাঞ্জাব থেকে খুঁজে বের করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। সতীশ এবং মনীশের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটা ভাবাই যায় না যে একজন বাবা তার ছেলের মৃত্যুর নাটক সাজাতে পারে। এটা শুধু টাকার লোভের জন্যই হয়েছে।” আরেকজন বলেন, “পুলিশের তৎপরতার জন্যই এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। না হলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বড় ক্ষতির মুখে পড়ত।”
দ্বারকার ডিসিপি অঙ্কিত সিং জানান, “এই কেসে আমরা প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করেছি। তদন্ত চলছে এবং আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনব।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের অপরাধ সমাজে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে। আমরা এটি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
ভারতে ইন্স্যুরেন্স (insurance)জালিয়াতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা
এই ঘটনা ভারতে ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতার একটি উদাহরণ। গত কয়েক বছরে এমন একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে মানুষ আর্থিক লাভের জন্য মৃত্যুকে নাটক হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর উচিত তাদের যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো।
নজফগড়ের এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের লোভের গল্প নয়, বরং সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়ের একটি প্রতিচ্ছবি। গগন এবং সতীশের এই কাণ্ড তাদের পরিবারের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের তদন্ত শেষ হলে এই জালিয়াতির পূর্ণ চিত্র প্রকাশ্যে আসবে। তবে এটি স্পষ্ট যে, অর্থের লোভ মানুষকে কতটা নিচে নামিয়ে আনতে পারে।