সাত সকালে স্পাইস জেটের চাকা বিভ্রাট, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীদের

অল্পের জন্য রক্ষা পেলো স্পাইস জেটের (spice jet) একটি বিমান। জয়পুর থেকে চেন্নাইগামী স্পাইসজেটের একটি ফ্লাইট আজ ভোরে চেন্নাই বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ফ্লাইটটি প্রযুক্তিগত…

spice jet wheel falure

অল্পের জন্য রক্ষা পেলো স্পাইস জেটের (spice jet) একটি বিমান। জয়পুর থেকে চেন্নাইগামী স্পাইসজেটের একটি ফ্লাইট আজ ভোরে চেন্নাই বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ফ্লাইটটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভোর ৫:৪৬-এ নিরাপদে অবতরণ করে। জয়পুর বিমানবন্দর থেকে টেক অফের পর পাইলট একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা লক্ষ্য করেন এবং চেন্নাই বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ জরুরি অবতরণের অনুমতি চান।

   

সূত্রের খবর অনুযায়ী, অবতরণের পর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে বিমানের একটি চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, ফ্লাইট SG9046-এর সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিরাপদে রয়েছেন এবং তাদের সুরক্ষিতভাবে বিমান থেকে নামানো হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Advertisements

ঘটনার বিবরণ

আজ ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চেন্নাই বিমানবন্দরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জয়পুর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা এই ফ্লাইটটি (spice jet) টেক অফের কিছুক্ষণ পরেই পাইলটের কাছে প্রযুক্তিগত ত্রুটির সংকেত পায়। তিনি তৎক্ষণাৎ বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জরুরি অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ভোর ৪:৫৫ থেকে বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে বিমানটি সকাল ৫:৪৬-এ নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর বিমানটির একটি চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়, যা সম্ভবত উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় ঘটেছে।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, “পাইলটের তৎপরতা এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দ্রুত সাড়ার কারণে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি।” অবতরণের পর যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের দ্রুত বিমান থেকে নামিয়ে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরো দেখুন ‘অপারেশন ব্রহ্মা’, মায়ানমারে ভূমিকম্পের পর ভারতের নয়া উদ্যোগ

স্পাইসজেটের (spice jet)প্রতিক্রিয়া

স্পাইসজেটের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমাদের জয়পুর-চেন্নাই ফ্লাইট SG9046 প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে চেন্নাই বিমানবন্দরে ফিরে আসে। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে নামতে পেরেছেন। আমরা এই ঘটনার জন্য দুঃখিত এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করছি।” তবে, ত্রুটির সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিমান প্রকৌশলীরা তদন্ত করে ত্রুটির উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

IOSA সার্টিফিকেশনের পর ঘটনা

এই ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুই দিন পরে, যখন স্পাইসজেট ঘোষণা করেছিল যে তাদের IATA অপারেশনাল সেফটি অডিট (IOSA) সার্টিফিকেশন সফলভাবে নবায়ন করা হয়েছে। এই সার্টিফিকেশনটি বিশ্বব্যাপী অপারেশনাল নিরাপত্তার একটি মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত এবং এটি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বৈধ থাকবে। স্পাইসজেট জানিয়েছিল, “এই সার্টিফিকেশন আমাদের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং উচ্চমানের পরিষেবার প্রমাণ।” কিন্তু এই ঘটনা সেই দাবির উপর প্রশ্ন তুলেছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা স্পাইসজেটের রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার দিকে আঙুল তুলতে পারে।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা

যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ ঘটনার সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। একজন যাত্রী, রাহুল শর্মা বলেন, “আমরা যখন জানলাম যে বিমানটি ফিরে যাচ্ছে, তখন ভয় লেগেছিল। তবে পাইলটের দক্ষতায় আমরা নিরাপদে পৌঁছে গেছি।” আরেকজন যাত্রী, প্রিয়া রাও জানান, “অবতরণের সময় একটু ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছিল, কিন্তু আমরা সবাই ঠিক আছি।” যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইট বা অন্যান্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে বিমান সংস্থা জানিয়েছে।

তদন্ত ও নিরাপত্তা প্রশ্ন

চাকার ক্ষতির কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানটির টেক অফের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, বা অবতরণের সময় ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিচালক (DGCA) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকার ক্ষতি গুরুতর সমস্যা হতে পারে এবং এটি রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

গত কয়েক বছরে স্পাইসজেটের বেশ কয়েকটি ফ্লাইটে প্রযুক্তিগত সমস্যার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চেন্নাই থেকে কোচি যাওয়া একটি ফ্লাইটও মাঝ আকাশে ত্রুটির কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো স্পাইসজেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলছে। একজন বিমান চলাচল বিশ্লেষক বলেন, “IOSA সার্টিফিকেশন থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। স্পাইসজেটকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে।”

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর চেন্নাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে। বিমানটি রানওয়ে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে, যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে। স্পাইসজেট জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। DGCA-র তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনা ভারতীয় বিমান চলাচল শিল্পে নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে এনেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পাইসজেটসহ সব বিমান সংস্থার উপর চাপ বাড়ছে।