কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে শনিবার মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এখন এটিএম উত্তোলন চার্জ বাড়ানোর অনুমতি পাচ্ছে(Modi government ATM charges hike) এবং এর মাধ্যমে সরকার সাধারণ নাগরিকদের “লুট” করার কাজে ব্যাংকগুলোকে “সংগ্রহকারী এজেন্ট” হিসেবে ব্যবহার করছে।
খার্গে তাঁর পোস্টে বলেছেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের ব্যাংকগুলোকে মোদী সরকার ‘সংগ্রহকারী এজেন্ট’ হিসেবে পরিণত করেছে! এটিএম উত্তোলন চার্জ এখন আরও বাড়ানো হবে।” তিনি জানান গত কয়েক বছরে ব্যাংকগুলো একের পর এক অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে নাগরিকদের অর্থ শোষণ করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে হানা দিয়েছে এক ধরণের “অবাধ লুটপাট”।
চার্জের তালিকা:
কংগ্রেস সভাপতি আরও উল্লেখ করেছেন “মোদি সরকারের অধীনে, ব্যাংকগুলো নাগরিকদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় করছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে, শুধুমাত্র সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট এবং জনধন অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৩,৫০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
অ্যাকাউন্টে কোনো কাজ না করলে প্রতি বছর ১০০-২০০ টাকা অকার্যকরতা ফি
ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইস্যু চার্জ ৫০-১০০ টাকা
এসএমএস অ্যালার্ট চার্জ প্রতি কোয়ার্টারে ২০-২৫ টাকা
লোন প্রসেসিং ফি ১-৩ শতাংশ
লোন শোধ করার সময় প্রি-ক্লোজার চার্জ
এনইএফটি এবং ডিমান্ড ড্রাফটের চার্জ
কেওয়াইসি আপডেটের জন্য সিগনেচার পরিবর্তনেও চার্জ
খার্গে অভিযোগ করেছেন এসব চার্জ নিয়ে ভারত সরকার আগে সংসদে প্রতিবেদন দিত, কিন্তু এখন আর সেই তথ্য দেওয়া হয় না। সরকারের দাবি, “আরবিআই এমন তথ্য সংগ্রহ করে না”।
ব্যাংকিং খাতে খরচের বোঝা:
খার্গে বলেছেন, “বিপুল পরিমাণে অতিরিক্ত খরচ সাধারণ মানুষের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। মোদী সরকারের শাসনে যেখানে জনগণের জন্য কল্যাণকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, সেখানে ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জনগণের পকেট কাটার কাজ চলছে।”
আরবিআই-এর নতুন সিদ্ধান্ত:
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া শুক্রবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ১ মে থেকে ব্যাংকগুলো এটিএম উত্তোলনের জন্য আরও বাড়ানো চার্জ আরোপ করতে পারবে। ফলে ব্যাংক গ্রাহকরা তাদের নিজস্ব ব্যাংক এটিএম থেকে পাঁচটি ফ্রি লেনদেন পাবেন, কিন্তু অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে ফ্রি লেনদেনের সীমা কমানো হয়েছে। মেট্রোপলিটন শহরে তিনটি এবং নন-মেট্রোপলিটন শহরে পাঁচটি ফ্রি লেনদেন পাওয়া যাবে।
বিজেপির বিরুদ্ধে খার্গে আরও অভিযোগ:
কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন যে বিজেপি সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। “ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি এবং অবাধ লুটপাট – এটাই বিজেপির একমাত্র মন্ত্র,” খার্গে মন্তব্য করেন।
বিজেপির সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে খার্গে অভিযোগ করেছেন “মোদি সরকার শোষণের ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ শুধু বাড়ানো চার্জের বোঝা বহন করছে, কিন্তু কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।”
এদিকে মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত এবং ব্যাংকিং খাতে বাড়তি চার্জ আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি মোদী সরকারের ‘লোকসভার’ জন্য সুবিধা নেওয়া আরম্ভ হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার কাজ চলছে।
বিগত বছরগুলিতে দেশের জনগণের জন্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যা আগামী দিনগুলোতে আরো তীব্র হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলে।