গিগ কর্মীদের জন্য পেনশন! সুইগি-জোমাটোকে দিতে হবে ২% আয়

ভারতের গিগ কর্মীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার একটি পেনশন পরিকল্পনার (Gig Workers Pension) উপর কাজ করছে বলে জানা গেছে। এই প্রস্তাবিত…

Gig Workers' Pension

ভারতের গিগ কর্মীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার একটি পেনশন পরিকল্পনার (Gig Workers Pension) উপর কাজ করছে বলে জানা গেছে। এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায়, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যেমন সুইগি, জোম্যাটো, ব্লিঙ্কিট এবং উবারের মতো সংস্থাগুলিকে তাদের গিগ কর্মীদের আয়ের ২% পেনশন তহবিলে জমা দিতে হবে। এই উদ্যোগটি গিগ অর্থনীতির কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যারা ভারতের ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করছে।

   

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই প্রস্তাবিত স্কিমে প্ল্যাটফর্ম অ্যাগ্রিগেটরদের নির্দেশ দেওয়া হবে যে, তারা প্রতিটি লেনদেনে গিগ কর্মীদের আয়ের ২% কেটে নিয়ে তা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)-এর দ্বারা পরিচালিত একটি অ্যাকাউন্টে জমা করবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অবদান কর্মীদের নিয়মিত আয়ের অতিরিক্ত হবে এবং তাদের মজুরি থেকে কাটা হবে না। এর ফলে গিগ কর্মীরা তাদের পূর্ণ আয় পাবেন এবং পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য একটি পেনশন তহবিল গড়ে উঠবে।

Advertisements

পরিকল্পনার সময়সীমা ও আলোচনা

সূত্রের খবর, এই উদ্যোগটি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে। তবে এর আগে সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং গিগ ইকোনমি প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা সম্পন্ন করা হবে। এই আলোচনার মাধ্যমে পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সমঝোতা করা হবে, যাতে সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে, যা গত ১ ফেব্রুয়ারি উপস্থাপিত হয়েছিল, গিগ কর্মীদের জন্য একটি সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল। এছাড়াও, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ভারতের গিগ অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে গিগ কর্মীদের সংখ্যা ২৩৫ মিলিয়নে পৌঁছাবে। এই বিশাল শ্রমশক্তির কল্যাণে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কীভাবে কাজ করবে  Gig Workers Pension স্কিম?

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, গিগ কর্মীদের একটি অনন্য পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। তাদের ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে, যার মাধ্যমে তারা পেনশন সহ অন্যান্য সুবিধা, যেমন প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় স্বাস্থ্য সুবিধা পাবেন। নিবন্ধনের পর তাদের তথ্য যাচাই করা হলে, ইপিএফও থেকে একটি ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) দেওয়া হবে। এই ইউএএন-এর মাধ্যমে তারা তাদের পেনশন অবদানের হিসাব দেখতে পারবেন।

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই স্কিমটি বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে তার একটি উদাহরণ। ধরা যাক, একজন গিগ কর্মী কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রতি লেনদেনে ১৫ টাকা আয় করেন। এই ক্ষেত্রে, নিয়োগকর্তা সেই ১৫ টাকার ২%, অর্থাৎ ৩০ পয়সা, কর্মীর ইপিএফও-সংযুক্ত ইউএএন অ্যাকাউন্টে জমা করবেন। এই অবদান কর্মীর আয় থেকে কাটা হবে না, বরং প্ল্যাটফর্ম সংস্থার পক্ষ থেকে অতিরিক্তভাবে প্রদান করা হবে।

গিগ কর্মীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের গিগ অর্থনীতি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্য সরবরাহ, রাইড-শেয়ারিং, এবং কুইক-কমার্সের মতো খ Ascendingly, গিগ কর্মীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এই কর্মীরা প্রায়শই স্থায়ী চাকরির সুবিধা যেমন পেনশন, স্বাস্থ্য বীমা, এবং ছুটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন। এই প্রস্তাবিত পেনশন স্কিম তাদের জন্য একটি নিরাপত্তা জাল তৈরি করবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ গিগ কর্মীদের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম সংস্থাগুলির উপরও একটি নৈতিক দায়িত্ব আরোপ করবে। তবে, কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই অতিরিক্ত খরচ প্ল্যাটফর্মগুলি পরোক্ষভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে উঠিয়ে নিতে পারে, যার ফলে পরিষেবার মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

শ্রমিক সংগঠন ও প্ল্যাটফর্মের প্রতিক্রিয়া

শ্রমিক ইউনিয়নগুলি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি গিগ কর্মীদের অধিকার রক্ষার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে, গিগ ইকোনমি প্ল্যাটফর্মগুলি এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন আলোচনায় তারা এই অবদানের পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সরকারের এই উদ্যোগ গিগ অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়। ভারতের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে গিগ কর্মীরা অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে, তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এই স্কিম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, এটি অন্যান্য দেশের জন্যও একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।

গিগ কর্মীদের জন্য এই পেনশন পরিকল্পনা কেবল আর্থিক নিরাপত্তাই নয়, তাদের সমাজে একটি সম্মানজনক অবস্থানও নিশ্চিত করবে। আগামী দিনে এই উদ্যোগ কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর প্রভাব কী হয়, তা দেখার জন্য সকলের দৃষ্টি এখন সরকারের দিকে।