“আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না, ক্ষুব্ধ রাহুল গাঁন্ধী

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (rahul gandhi) স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে সংসদে কথা বলার সুযোগ দেওয়া…

"'I Am Not Allowed to Speak,' Furious Rahul Gandhi"

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (rahul gandhi) স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে সংসদে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং এটি সংসদ পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি নয়। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল বলেন, “আমি জানি না কী চলছে।

   

আমি তাঁকে বলতে অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু স্পিকার শুধু পালিয়ে গেলেন। এভাবে সংসদ চালানো যায় না। স্পিকার চলে গেলেন, আমাকে কথা বলতে দিলেন না। তিনি আমার সম্পর্কে কিছু ভিত্তিহীন কথা বললেন। তিনি সংসদ স্থগিত করে দিলেন, যদিও তার কোনও প্রয়োজন ছিল না।”

Advertisements

 

রাহুল গান্ধী  (rahul gandhi) আরও বলেন

 

রায়বরেলির সাংসদ রাহুল গান্ধী আরও বলেন, সংসদে একটি প্রথা রয়েছে যে, বিরোধী দলনেতাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে এই প্রথা মানা হচ্ছে না। “যখনই আমি দাঁড়াই, আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমরা যা বলতে চাই, তা বলার অনুমতি পাই না। আমি কিছুই করিনি। আমি চুপচাপ বসে ছিলাম। একটি কথাও বলিনি। গত ৭-৮ দিন ধরে আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এটি একটি নতুন কৌশল।

বিরোধী দলের জন্য কোনও জায়গা নেই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী কুম্ভমেলা নিয়ে কথা বললেন, আমি কিছু যোগ করতে চেয়েছিলাম, বেকারত্ব নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্পিকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী, আমি জানি না, কিন্তু আমাদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এটি একটি অগণতান্ত্রিক কার্যপ্রণালী,” তিনি বলেন।

এই ঘটনা আজ, ২৬ মার্চ ২০২৫-এর সংসদীয় অধিবেশনের সময় ঘটেছে। রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগ সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিনি যখনই কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তখনই তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুম্ভমেলা নিয়ে বক্তব্যের পর তিনি বেকারত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু স্পিকার ওম বিড়লা তাঁকে সেই সুযোগ দেননি।

আরো দেখুন পাঁচ মিনিটেই রায়! তৃণমূল নেতাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

 

৭০ জন সাংসদ স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

 

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পর কংগ্রেস দলের ৭০ জন সাংসদ স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের বিরোধী দলনেতার প্রতি এই বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ মণিকম ট্যাগোর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আবারও সংসদে কথা বলতে দেওয়া হলো না। বিরোধী দলের প্রতি এই বৈষম্য কেন? আমরা ৭০ জন সাংসদ মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এই পদ্ধতির জন্য আমাদের বেদনা ও আক্ষেপ জানিয়েছি।”

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, “আমি শান্তভাবে বসে ছিলাম। আমি কোনও উস্কানি দিইনি। তবুও আমাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এটি বিরোধী দলকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার একটি কৌশল।” তিনি স্পিকারের এই আচরণকে “অগণতান্ত্রিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, এটি সংসদের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। তাঁর মতে, সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টা দেশের গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

 

ঘটনার পটভূমি

 

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে গত ১৮ মার্চের একটি ঘটনা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী মহাকুম্ভ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে তাঁর মতামত জানাতে এবং বেকারত্বের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্পিকার ওম বিড়লা তাঁকে সেই সুযোগ দেননি এবং সংসদ স্থগিত করে দিয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী সেদিনও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমর্থন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে বেকারত্ব নিয়ে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এটি নতুন ভারত।”

কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে দাবি

 

কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সংসদে বিরোধী দলকে ক্রমাগত উপেক্ষা করা হচ্ছে। দলের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “সংসদকে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে চালানো হচ্ছে। একটি নিয়ম রয়েছে যে, বিরোধী দলনেতাকে সংসদে কথা বলতে দেওয়া হয়। কিন্তু যখনই আমি কথা বলতে চাই, তখনই আমাকে বাধা দেওয়া হয়।” এই পোস্টে রাহুল গান্ধীর একটি ভিডিও-ও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর অভিযোগ তুলে ধরছেন।

এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, সংসদে তাদের কণ্ঠস্বরকে দমন করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর এই সাম্প্রতিক অভিযোগ সেই দাবিকে আরও জোরালো করেছে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের প্রতিনিধি। আমাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু স্পিকারের এই আচরণে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”

সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা

সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগ সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। তবে, স্পিকার ওম বিড়লা বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। আগামী দিনে এই ঘটনা সংসদের ভিতরে ও বাইরে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।