সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৮ম বেতন কমিশনের বড় আপডেট

ভারত সরকার অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন করেছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশন সংশোধনের জন্য কাজ করবে। এই কমিশনের ঘোষণার…

Govt Employees 8th Pay Commission:

ভারত সরকার অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন করেছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশন সংশোধনের জন্য কাজ করবে। এই কমিশনের ঘোষণার পর থেকেই কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে উৎসাহ এবং প্রত্যাশা বেড়েছে। সম্প্রতি, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন লোকসভায় এই কমিশন সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে প্রায় ৩৬.৫৭ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি বেসামরিক কর্মচারী এবং ৩৩.৯১ লক্ষ পেনশনভোগী ও তাদের পরিবার উপকৃত হবেন। এছাড়াও প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মচারী ও পেনশনভোগীরাও এর সুবিধা পাবেন।

   

কতজন উপকৃত হবেন?

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন লোকসভায় বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাজদা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের বেসামরিক কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৩৬.৫৭ লক্ষ এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত পেনশনভোগী ও তাদের পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩৩.৯১ লক্ষ। এছাড়াও প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মী এবং পেনশনভোগীরাও এই কমিশনের সুপারিশের আওতায় আসবেন।” এই বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে ভোগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisements

কমিশনের কাজ এবং সময়সীমা

লোকসভায় আরও একটি প্রশ্ন উঠেছিল—এই কমিশনের কার্যপরিধি (টার্মস অফ রেফারেন্স বা টিওআর) এবং সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা কী হবে? এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, “এই বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে।” বর্তমানে কমিশনের কার্যপরিধি নির্ধারণের জন্য প্রধান স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কর্মচারী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ (ডিওপিটি) এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কমিশনের কাজের পরিধি এবং রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা চূড়ান্ত হবে।

আর্থিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে সরকারের উপর আর্থিক বোঝা বাড়বে কি না? এর উত্তরে সীতারমন বলেন, “অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের আর্থিক প্রভাব তখনই জানা যাবে, যখন কমিশন তার প্রস্তাবনা জমা দেবে এবং সরকার তা গ্রহণ করবে।” তিনি আরও জানান, এই কমিশনের প্রভাব শুধুমাত্র সুপারিশ গৃহীত হওয়ার পরই মূল্যায়ন করা সম্ভব। তবে, এটা স্পষ্ট যে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির ফলে সরকারের ব্যয় বাড়বে, যা অর্থনীতিতে ভোগ বৃদ্ধি এবং চাহিদা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে পারে।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রেক্ষাপট

সপ্তম বেতন কমিশন ২০১৬ সালে কার্যকর হয়েছিল এবং এর মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এই কমিশনের আওতায় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল এবং পেনশন ৩,৫০০ টাকা থেকে ৯,০০০ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৮৬ থেকে ৩.৬৮-এর মধ্যে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এর ফলে সর্বনিম্ন বেতন ৫১,৪৮০ টাকা এবং পেনশন ২৫,৭৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে, এই হিসেব এখনও অনুমানভিত্তিক এবং কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের উপর নির্ভর করবে।

8th Pay Commission:  বাংলার প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কলকাতায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত হাজার হাজার কর্মচারী এই কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষায় রয়েছেন। একজন কেন্দ্রীয় কর্মচারী বলেন, “মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। বেতন বৃদ্ধি আমাদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসবে।” পেনশনভোগীরাও আশা করছেন যে তাদের পেনশন বাড়লে দৈনন্দিন জীবন আরও সহজ হবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব

অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের হাতে বেশি টাকা আসবে। এটি ভোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত আয় অর্থনীতিতে প্রবাহিত হলে খুচরা বাণিজ্য, রিয়েল এস্টেট এবং অন্যান্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে, সরকারের উপর আর্থিক চাপও বাড়বে। সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার সময় সরকারের ব্যয় ১ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছিল। অষ্টম কমিশনের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

কবে কার্যকর হবে?

অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে কমিশনের সুপারিশ এখনও প্রস্তুত হয়নি। সাধারণত একটি বেতন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি এবং তা কার্যকর করতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। সপ্তম বেতন কমিশন ২০১৪ সালে গঠিত হয়েছিল এবং ২০১৬ সালে কার্যকর হয়েছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে।

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য একটি নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ এর সুবিধা পাবেন, যা দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে, কমিশনের সুপারিশ এবং তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত। বাংলার কর্মচারী ও পেনশনভোগীরাও এই ঘোষণার দিকে নজর রেখেছেন, আশায় যে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।